পাবনার বরগুনা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরটি, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক আলোকচিত্র, বই, স্মরণিকা, মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত কাঠের বন্দুক, পোশাক, রান্নার পাত্রসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক জিনিসপত্র সংরক্ষিত ছিল, সেগুলোর প্রায় সবই লুট হয়ে গেছে। এই ঘটনা দেশের মানুষের মধ্যে গভীর হতাশা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে, এই জাদুঘরের কক্ষগুলো খালি হয়ে পড়ে রয়েছে এবং সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার আহ্বান উঠেছে।
গত ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে এই জাদুঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা জাদুঘরের সংগ্রহীত সব উপকরণ ভেঙে ফেলে এবং অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। হামলার পর থেকে লুট হওয়া সামগ্রী ফেরত আনার চেষ্টা করা হলেও, এখনো সেগুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বরগুনা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি চিত্তরঞ্জন শীল জানান, ১৯৯৫ সালে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে তারা বরগুনায় মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসভিত্তিক বেশ কিছু আলোকচিত্র সংগ্রহ করেন এবং তা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করেন। পরে ২০১৮ সালে এই উদ্যোগটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয় এবং ২০১৯ সালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর হিসেবে রূপান্তরিত হয়।
এ জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের দুষ্প্রাপ্য আলোকচিত্র, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের দলিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের ছবি এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষিত ছিল। সেগুলোর মধ্যে বেতাগী শাহি মসজিদ এবং মজিদবাড়িয়া মসজিদের ইট, পুরোনো রেডিও ও টেলিভিশন, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বস্তু ছিল।
হামলার সময়, হামলাকারীরা কক্ষের সমস্ত কাচঘেরা টেবিল ভেঙে ফেলে এবং অনেক উপকরণ লুট করে নিয়ে যায়। বই ও দলিলপত্রও ছিঁড়ে ফেলা হয়। জাদুঘরের ব্যবহৃত মাইকও ভেঙে ফেলা হয় এবং অবশিষ্ট উপকরণগুলো যা পাওয়া গেছে, তা কেউ না কেউ নিয়ে গেছে।
বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক ইউসুপ মৃধা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দাবি করেছেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরটি নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছেন, যেন জাদুঘরটি পুনরায় সংরক্ষিত এবং লুট হওয়া উপকরণগুলো উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনার পর, বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও, তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
