যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক সম্প্রতি একটি দুর্নীতি মামলায় ঢাকার আদালত থেকে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর, বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার পরিকল্পনা করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের প্রতিবেদক রব পাওয়েল সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকার আদালত প্লট দুর্নীতি মামলায় টিউলিপ সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করে। মামলাটি সম্পর্কে জানা যায়, বাংলাদেশে এটি প্রথম ঘটনা যেখানে কোনো বিদেশি এমপি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নি এবং বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সদস্য এবং মন্ত্রিসভার প্রাক্তন সদস্য। তবে, বাংলাদেশ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের কারণে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, টিউলিপ তার ব্রিটিশ এমপি পদ ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে চাপ দিয়ে তার মা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য প্লট বরাদ্দ করানোর চেষ্টা করেছিলেন। যদিও টিউলিপ নিজে কোনো প্লট নেননি, তার পরিবার সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলায় তাকে আসামি করা হয়।
ঢাকার আদালতের রায় অনুসারে, শেখ রেহানা, তার মেয়ে রূপন্তী এবং ছেলে ববি সহ অন্যান্য সদস্যদেরও সাজা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্কাই নিউজের রাজনৈতিক প্রতিবেদক রব পাওয়েল জানিয়েছেন, যদিও টিউলিপ বাংলাদেশে গিয়ে এই মামলার মোকাবিলা করবেন না, তবে তিনি বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার পরিকল্পনা করছেন।
প্রতিক্রিয়ায়, টিউলিপ সিদ্দিক গার্ডিয়ানকে জানান, বাংলাদেশে তার অনুপস্থিতিতে যে বিচার প্রক্রিয়া চলেছে, তা তিনি ‘ত্রুটিপূর্ণ ও প্রহসনমূলক’ মনে করছেন। তিনি এ রায়ের গুরুত্ব দেখছেন না এবং এটিকে তিনি ‘প্রহসন’ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
এদিকে, লেবার পার্টি এবং যুক্তরাজ্যের শীর্ষ আইনজীবীরা এই মামলার বিরুদ্ধে আপত্তি জানালে টিউলিপের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা টিউলিপ সিদ্দিককে বহিষ্কার করবে না এবং তারা বাংলাদেশ সরকারের বিচার প্রক্রিয়া মেনে নিচ্ছে না।
ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক স্পষ্ট করেছেন, তিনি এমপি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছেন না এবং তার মনোযোগ পুরোপুরি হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট আসনের দায়িত্বে নিবদ্ধ রয়েছে।
