প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করার সময় প্রথমে আইনজীবী শাহদীন মালিকের নাম ঘোষণা করেছিলেন। তিনি দায়িত্ব নেননি। এরপর যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অধ্যাপক আলী রিয়াজকে কমিশনের প্রধান করা হয় এবং পরে তাকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি হিসেবে আরও ক্ষমতা দেওয়া হয়।
গত বছরের নভেম্বরে ইউনূস যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী খলিলুর রহমানকে রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে নিয়োগ দেন। এর কিছুদিন পর তাকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সমপর্যায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা দুজনকে দেশে এনে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া নিয়ে তখন থেকেই প্রশ্ন ওঠে। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেছিলেন, খলিল কী উদ্দেশ্যে এসেছে তা শুধুই আল্লাহ জানেন।
খলিল দায়িত্বে থাকা অবস্থায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং মিয়ানমারে মানবিক করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তুলে তিনি নানা সন্দেহ তৈরি করেন। অন্যদিকে আলী রিয়াজের প্রস্তাবিত সংস্কার রূপরেখা নিয়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের অভিযোগ ছিল, এর মধ্যে আলোচনার বাইরের বিষয়ও যুক্ত করা হয়েছে।
তবে এই সব বিতর্কের বাইরে এখন আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নারী সংক্রান্ত অভিযোগ। খলিলকে নিয়ে পুরনো সমালোচনা ফের উঠে এসেছে, আর আলী রিয়াজকে ঘিরে নতুন অভিযোগ সামনে এনেছেন এক নারী।
সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদ আগে থেকেই খলিলের অতীত কর্মকাণ্ডের নানা তথ্য প্রকাশ করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, খলিল যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গোপন করেছিলেন, হার্ভার্ডে পড়াশোনার দাবি ছিল মিথ্যা, জাতিসংঘে বাংলাদেশের মিশনে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় এক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে খলিলের সম্পর্কের জেরে ওই নারীর স্বামী তাকে গুলি করে আত্মহত্যা করেছিলেন। ঘটনার পর খলিল দ্রুত দেশ ছেড়ে চলে যান।
আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে নতুন ভিডিওতে। এক নারী দাবি করেছেন, আলী রিয়াজ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন এবং পরে তাকে গর্ভপাতে বাধ্য করেছিলেন। ওই নারী বলেন, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ফেসবুকে তাদের পরিচয় হয়। আলী রিয়াজ ব্যক্তিগত জীবনের কথা বলে সম্পর্ক এগিয়ে নেন এবং পরে ঢাকায় এসে তাকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ডাকেন। তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে তারা কয়েকদিন ছিলেন এবং আলী রিয়াজ তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন।
ওই নারী বলেন, পরে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আলী রিয়াজ দূরে সরে যেতে থাকেন এবং দিলরুবা শারমিন নামে এক নারী ফোন করে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন। তিনি দাবি করেন, ধানমণ্ডির গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে তাকে গর্ভপাত করানো হয় এবং ঘটনার পর আলী রিয়াজ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। ওই নারী বলেন, তিনি এখন প্রাণনাশের হুমকিতে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ইউনূসের প্রেস উইং এক বিবৃতি প্রকাশ করে। তারা দাবি করে, আলী রিয়াজ ওই নারীকে চেনেন না এবং অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হয়েছে। ওই নারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
