ফোরটিন ডেস্ক : চলতি বছরের প্রথম আট মাসে নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং একই সময়ে নানা সহিংসতায় প্রাণ গেছে অন্তত ১৫৫ শিশুর। পুলিশ সদর দপ্তর ও মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এসব তথ্য প্রকাশ করে।
পুলিশ সদর দপ্তর ও আসকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের প্রথম সাত মাসে নিখোঁজ হওয়া ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে দুই হাজার ৩৮ জন শিশু।
মানবাধিকার সংগঠন আসকের মুখপাত্র জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় শিশু হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সার্বিক উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে এবং নিখোঁজ শিশুদের অনুসন্ধানে একাধিক বিশেষ দল কাজ করছে। ময়নাতদন্ত ও মামলার অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিখোঁজ হওয়ার পর সম্প্রতি কুমিল্লায় ১৩ বছরের অপ্রতিম, পাবনায় ১০ বছরের এক শিশু এবং জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক শিশুর মরদেহ মর্মান্তিকভাবে উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনার কয়েকটিতে আসামিদের ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি বলেন, “পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি পরিসরে শিশুদের সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করা এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।”
আসকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেবল পারিবারিক সহিংসতা ও শারীরিক নির্যাতনেই শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গুলিতে তিনজন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুজন এবং অপহরণের পর এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
শিশুদের ওপর এমন ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ অভিভাবকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিশু অধিকার কর্মীরা দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
নিখোঁজ থাকা দুই হাজার ৩৮ জন শিশুকে উদ্ধারে পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
