নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের আটক করা হয়।
শনিবার বেলা ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
হরিণটানা বা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সূত্র জানায়, আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন তুহিন, ফাহিম ও আনাস। শুক্রবার কোটবাড়ীর ভাড়া বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর শনিবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার কার্যক্রম শেষ করেছে এবং অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কুবি শিক্ষকের একমাত্র সন্তান ছিল। সে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বেরিয়েছিল।
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “আমি লজ্জিত, আমি ক্ষমাপ্রার্থী, এ এলাকার এমপি হিসেবে আমি লজ্জিত, আমরা এ সমস্ত বাচ্চাদেরকেও রক্ষা করতে পারলাম না।”
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি। একটা আইফোনের জন্য একটা মাসুম বাচ্চাকে মানুষ এভাবে মারতে পারে। আমি কল্পনা করি নাই। কী দেশ বানাইলাম। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি লজ্জিত, জাতির কাছে আমি ক্ষমা চাই।’
আমি তার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি, কিন্তু কী জবাব দেব আমি জানি না বলেও অঝোরে কাঁদতে থাকেন এমপি মনিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েরা বিদেশ থেকে টেলিফোনে জিজ্ঞেস করছে- বাবা এটা কী হলো? আমার কোনো জবাব নাই, আমি শুধু বলবো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনি দেখুন, এদের হাত থেকে কিশোরদেরকে রক্ষা করুন।’
একজন শিক্ষকের একমাত্র সন্তানকে এভাবে হত্যা করায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ভয় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রতিনিধিরা এলাকায় কিশোরদের নিরাপত্তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়া এবং ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আসার পর এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ নিশ্চিত করা হবে।
