নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার ধামরাইয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের কর্মী রিফাত আহমেদকে না পেয়ে তাঁর ষাটোর্ধ্ব বাবা মোহাম্মদ কলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর বাড়িতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে।
বালিয়া ইউনিয়নের ভাবনহাটি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কলিম উদ্দিনকে রাতে আটক করা হয়। ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, তাঁকে একটি পুরোনো পেন্ডিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ধামরাই থানা পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা স্বীকার করেছে এবং কাউলিপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। বর্তমানে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কাউলিপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ পুলিশ দল এ অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধার বা গ্রেপ্তার সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রেপ্তারকৃত কলিম উদ্দিন (৬০) পেশায় একজন কৃষক এবং তাঁর ছেলে রিফাত আহমেদ এলাকায় যুবলীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত বলে জানা গেছে। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ছেলে পলাতক রয়েছেন।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, “না, তার নামে কোনো মামলা ছিল না। তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক—এই তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
নিযুক্ত কলিম উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা বেগম এবং মেয়ে হ্যাপী আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রিফাত রাজনীতি করলেও তাঁর বাবার নামে কোনো মামলা ছিল না। ছেলেকে না পেয়ে নিরীহ কৃষক বাবাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একজন নিরীহ কৃষককে রাজনীতি না করা সত্ত্বেও গ্রেপ্তার করায় স্থানীয় মানুষের মাঝে গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মতে, এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার পর কলিম উদ্দিনের আইনি জামিন বা মামলা শুনানির প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
