বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা আবার অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে এসেছে খবর যে তিনি শিগগির ফিরছেন। সর্বশেষ নিজেও বলেছেন, “দ্রুতই মনে হয়। দ্রুতই ইনশাআল্লাহ।” তবু দিন যত যাচ্ছে, তার ফেরার সময় ততই রহস্যে ঘেরা হয়ে উঠছে।
এর আগে কয়েকবার বিএনপি নেতাকর্মীরা ভরসা করেছিলেন তিনি ফিরবেন। এমনকি মায়ের সঙ্গে লন্ডন থেকে ফেরার গুঞ্জনও উঠেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আসেননি। স্ত্রী জোবাইদা রহমান দেশে ফেরার পর BNP পুলিশের কাছে চিঠি দিয়ে তার নিরাপত্তা চেয়েছিল, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল জোবাইদার জীবনের ঝুঁকি থাকতে পারে। সেই চিঠির সূত্র ধরে ধারণা তৈরি হয়, একই ধরনের আশঙ্কা তারেকের ক্ষেত্রেও রয়েছে।
দলীয় নেতাদের বক্তব্য বরাবরই একটাই ছিল, পরিবেশ তৈরি হলে তারেক ফিরে আসবেন। কিন্তু পরিবেশ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, তা কখনও খোলাসা করা হয়নি।
২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হয়ে তারেক লন্ডনে চিকিৎসার নামে যান এবং আর ফেরেননি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন মামলায় তার সাজা হয়, যার মধ্যে রয়েছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলা। মায়ের কারাবাস, ভাই কোকোর মৃত্যু কোনোটিতেই তিনি দেশে আসেননি। গত বছর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। খালেদা জিয়া মুক্ত হন। আদালত তারেকের সাজাও খারিজ করে দেয়। পাসপোর্ট সমস্যারও সমাধান হয়। তবুও তিনি ফিরলেন না।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, খালেদা জিয়া বিদেশ চিকিৎসা শেষে ফিরলে তিনিও দেশে আসবেন। এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেটি ঘটেনি।
বিবিসির সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে যখন তাকে ফেরার সময় জানতে চাওয়া হয়, তিনি বলেন, “দ্রুতই মনে হয়।” দলের মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমদও আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি নভেম্বরের শেষে ফিরবেন। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার কথা। ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তফসিলের পরপরই তার ফেরা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, কিন্তু নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
দলের অভ্যন্তরীণ কয়েকটি সূত্র জানায়, তারেক এলে কোথায় থাকবেন সেটি ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু তারা নিজেরাও বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি কবে ফিরবেন।
BNP–র একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, “দেখে মনে হচ্ছে আসছেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি আসছেন না। আসলে আরও আগেই আসতেন।” কেন আসছেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি মনে করছি এর পেছনে কারণ জামায়াত।”
দলের আরও কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারেক রহমান দেশে ফিরছেন না মূলত প্রাণনাশের আশঙ্কা থেকে। তাদের দাবি, এই ঝুঁকি আসছে জামায়াত থেকে।
একজন মহানগর বিএনপি নেতা বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের অস্ত্র লুট হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। এসব এখনো তাদের হাতে। বিভিন্ন এলাকায় তারা সংগঠিত হচ্ছে। শুনি রাতের বেলা তাহাজ্জুদের সময় প্রশিক্ষণও নেয়।” তার মতে, তারা বুঝতে পেরেছেন এই মুহূর্তে সেনাবাহিনীর ওপর জামায়াতের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে, এবং সেনাবাহিনী ও জামায়াত মিলেই তারেক রহমানকে টার্গেট করতে পারে এই আশঙ্কাই তাকে ফিরতে বাধা দিচ্ছে।
বিএনপির কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তিনি কি আদৌ ফিরছেন, নাকি ফেরার কথাটাই রয়ে যাবে আরেকটি অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতি হিসেবে।
