আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নেই, মামলার সাজাও বাতিল হয়েছে। তারপরও তারেক রহমান দেশে ফিরছেন না এই প্রশ্নটি বিএনপির ভেতরেই ঘুরছিল। এবার নিজেই এর আভাস দিলেন তিনি। জানালেন, তার দেশে ফেরা একক সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়, কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে। তবে সেটি কী, তা স্পর্শকাতর বলে ব্যাখ্যা করলেন না। এতে আরও বেড়েছে জল্পনা তারেক রহমানের ভয় আসলে কোথায়?
এই বক্তব্যের আগে সজীব ওয়াজেদ জয় মন্তব্য করেন, বাংলাদেশে দুই দল থেকে নেতাদের মাইনাস করার তৎপরতা এখনও চলছে। তার কথায় আবার সামনে আসে ওয়ান-ইলেভেনের ‘মাইনাস টু’ বিতর্ক। তখন দুই নেত্রীকে সরিয়ে নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গড়ার প্রচেষ্টা হয়েছিল, যেখানে তারেকও গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছিলেন। মুক্তি পেয়ে লন্ডনে গিয়ে আর ফেরেননি তিনি। বলা হয়, তখন রাজনীতি না করার অঙ্গীকারেই বিদেশে যান তিনি।
এরপর আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন মামলায় তারেকের কারাদণ্ড হয়। ফলে দেশে ফিরলে আটক হওয়ার ঝুঁকি ছিল। কিন্তু গত বছরের অভ্যুত্থানের পর ছবিটা পাল্টে যায় বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পান, তারেকের সাজাও বাতিল হয়। তখন বিএনপি বলেছিল, বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেলে তারেক দেশে ফিরবেন। কিন্তু জানুয়ারিতে বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে গেলেও তারেক ফিরলেন না। বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ার পরও দেশে না ফিরছেন এতে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এদিকে সরকার বলছে, তার ফেরা নিয়ে তাদের কোনো বাধা নেই। সেনাবাহিনীকে বাধার কারণ হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ, যদিও এর কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আপত্তি দেশের বাইরে থেকেও আসতে পারে। ওয়িকিলিকসের তথ্য অনুযায়ী তারেককে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির উল্লেখ ছিল। ভারতের উদ্বেগও ছিল তারেকের অতীত যোগাযোগ নিয়ে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাই মুখ্য বলে মনে করেন অনেকে।
বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, ১/১১ সময়ের কিছু অঙ্গীকার হয়তো এখনও কার্যকর থাকতে পারে। তার ভাষায়, মাইনাস টুর আড়ালে একসময় আসলে মাইনাস ফোরের ছক ছিল দুই রাজনৈতিক পরিবারের চারজনকে রাজনীতি থেকে সরানো। শেখ হাসিনা পরিবার ইতোমধ্যেই ক্ষমতাচ্যুত। বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থতায় নিষ্ক্রিয়। বাকি আছেন শুধু তারেক রহমান। তিনি দেশে ফিরতে না পারলে সেই ছক পূর্ণ হতে পারে কি না সেটি এখন বড় প্রশ্ন।
