দেশে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনা আবারও বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসেই এ ধরনের ঘটনায় ১৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ২৩১ জন।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানায়, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২৫৬টি ঘটনায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তাদের মতে, সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যেও একই চিত্র ২০২৩ সালে ৫১ জন, ২০২৪ সালে তা বেড়ে ১২৮ জনে ওঠে।
দুই সংগঠনের পরিসংখ্যান মিলিয়ে দেখা যায়, গত ১২ বছর ১০ মাসে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১৩ জন। বিভাগভিত্তিক হিসেবে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে। আংশিক সন্দেহ, ছেলেধরা গুজব, চোর বা ডাকাত সন্দেহ—এই সব কারণেই বেশির ভাগ পিটুনি ঘটে।
মামলা হলেও বিচার খুব কম হয়। এইচআরএসএস মনে করে, সরকারের সদিচ্ছা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা–এই তিনটির অভাবেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, “মব ভায়োলেন্স স্পষ্টভাবে বেড়েছে। শাস্তির নিশ্চয়তা না থাকায় মানুষ আইন হাতে নিচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনের দুর্বল মনোভাব এবং পুলিশের কার্যকর ভূমিকার অভাবসহ কয়েকটি কারণে এই সহিংসতা বাড়ছে। কারও মতে, গত বছরের গণ–অভ্যুত্থানের পর পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্ব নিতে ভয় পাচ্ছে বা সময়ক্ষেপণ করছে, ফলে মানুষ সুযোগ নিচ্ছে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুনতাসীর মারুফ বলেন, এ ধরনের সহিংসতা মানুষের মনস্তত্ত্বে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে শিশুদের ওপর।
আইনজীবীরা মনে করেন, নির্বাচনের সময় সহিংসতা বাড়ে। পরিসংখ্যানও তা দেখায় ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ এবং সাম্প্রতিক ২০২৩–২৪ সালে গণপিটুনির সংখ্যা বেড়েছে। তাদের মতে, আগামী নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।
পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলম অবশ্য দাবি করেছেন, “মব সন্ত্রাস আগের চেয়ে কমেছে, আরও কমাতে কাজ চলছে।”
এ সময়ে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় গোপালগঞ্জে গরু চুরি সন্দেহে শামিম মিয়াকে হত্যা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তোফাজ্জলের মৃত্যু, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের পিটিয়ে হত্যা, আর ২০১৯ সালে বাড্ডায় তাসলিমা রেণুর মর্মান্তিক গণপিটুনি যার বিচার এখনো ঝুলে আছে।
