সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে আতঙ্ক ও紧张 অবস্থা বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ফলে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে, আর যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এই রায়কে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৩৯টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত থেকে রাজধানীর হাজারীবাগসহ বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন দেওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নগরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, “দেশে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত আছে।”
এই থমথমে পরিবেশের কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সব ধরনের পরীক্ষা বাতিল করেছে। পাশাপাশি কর্মীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ঢাকার একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বহুজাতিক কোম্পানি ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর নির্দেশ দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার বেলা ১১টায় শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণা করবে, যা বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে। এই মামলায় অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। উল্লেখ্য, এই প্রথম এ ধরনের কোনো মামলায় একজন আসামি (মামুন) রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই এই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। রায় পূর্বনির্ধারিত দাবি করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, “আমরা স্পষ্ট জানি রায় কী হবে… তারা তাকে দোষী সাব্যস্ত করবে এবং সম্ভবত মৃত্যুদণ্ড দেবে। কিন্তু আমার মায়ের কিছুই করতে পারবে না। তিনি ভারতে নিরাপদ আছেন।”
আওয়ামী লীগ প্রথম থেকেই এই আদালতকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেছেন, “এই ক্যাঙ্গারু কোর্টে অবৈধ বিচারের নামে নাটকের রায় কী হবে তা সবাই জানে; জাতি আজ ক্ষুব্ধ।”
অন্যদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, একটি মহল এই রায়কে কেন্দ্র করে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জামায়াতসহ আটটি দলও মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
