নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের মণিরামপুরে সামিয়া আফরোজ নামের এক তরুণীর পুরোনো ভিডিও ফেসবুকে পুনরায় পোস্ট করার জেরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার জেরে মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি, জামায়াত নেতা এবং ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জাকির হোসেনকে প্রকাশ্যে জুতোপেটা করেছেন ওই তরুণী। বুধবার সকালে মণিরামপুর বাজারের একটি স্থানে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফসানজানীর বিরুদ্ধে করা একটি মামলা থেকে তিনি খালাস পান। এই রায় ও এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি ও পোস্ট করে আসছিলেন জাকির হোসেন। এরই ধারাবাহিকতায় সামিয়া আফরোজের আগের একটি পুরোনো ভিডিও জাকির হোসেন তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে পুনরায় পোস্ট করেন। একই সঙ্গে ‘মণিরামপুর প্রেস’ নামের একটি ফেসবুক পেজেও ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়।
পুরোনো ভিডিও পুনরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি নজরে আসার পর ক্ষুব্ধ হন সামিয়া আফরোজ। কেন তার পুরোনো ভিডিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফেসবুকে পোস্ট করা হলো—এর কারণ জানতে বুধবার সকালে সরাসরি জাকির হোসেনের মুখোমুখি হন ওই তরুণী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ বিষয়ে জাকির হোসেন কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। একপর্যায়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সামিয়া সবার সামনে জাকির হোসেনকে জুতাপেটা করেন। ঘটনার সময় আশপাশে উপস্থিত লোকজন বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন এবং অনেকেই এর ভিডিও ধারণ করেন, যা পরবর্তীতে ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে মণিরামপুরে গড়ে উঠেছে কথিত ভুঁইফোড় ‘মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাব’। এই সংগঠনের সভাপতি জাকির হোসেনসহ বেশ কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্ডধারী সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি, ভূমিদখল এবং বিভিন্ন নারীদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় জাকির হোসেন ছাড়াও সুমন চক্রবর্তী, এস এম মামুন ও এস এম তাজাম্মুলের নাম রয়েছে।
বিশেষ করে, অভিযুক্তদের মধ্যে এস এম মামুন চাঁদাবাজির টাকায় উপজেলার বিজয়রামপুর গ্রামে একটি এতিমখানা গড়ে তুলেছেন এবং সেই এতিমের ফান্ড ও অর্থের ওপর নির্ভর করেই তার সংসার চলে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এ ঘটনায় মণিরামপুরজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল এসব ভুঁইফোড় সংগঠন ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অপকর্ম খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এবিষয়ে জাকির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
