ওয়াশিংটন প্রতিনিধি : যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির অভিবাসন নীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠতে চলেছে। বিশেষ করে বিদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য বহুল কাঙ্ক্ষিত এইচ-১বি ভিসা, কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী গ্রিন কার্ড এবং নিয়োগ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের ভবিষ্যৎ কংগ্রেসে চলমান ক্ষমতার লড়াই ও নির্বাচনের ফলাফলের ওপর বহুলাংশে নির্ভর করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইতোমধ্যে বিদেশি কর্মী নিয়োগের নীতিমালায় একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় দেশটিতে কর্মরত ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) পেশাজীবীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের চোখ এখন এই নির্বাচনের দিকে।
বর্তমানে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষেই ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। নির্বাচনে আইনসভার ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে গেলে অভিবাসনসংক্রান্ত একাধিক বিতর্কিত প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি ও আইন প্রণয়নের গতিপথ বদলে যেতে পারে। তবে কেবল ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশগুলো রাতারাতি বাতিল হবে না; সেগুলো সংশোধনের জন্য আইন প্রণয়ন বা আদালতের আইনি লড়াইয়ের প্রয়োজন হবে।
বর্তমানে কংগ্রেসে এইচ-১বি ভিসা নিয়ে কড়াকড়ি আরোপের একাধিক বিল আলোচনার টেবিলে রয়েছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের আনা ‘প্রটেক্টিং আমেরিকান ওয়ার্কার্স থ্রু এইচ-১বি মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট’-এ বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত নূন্যতম বেতনসীমা বর্তমানের ৬০ হাজার ডলার থেকে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে মন্টানার সিনেটর টিম শিহি উত্থাপিত ‘এন্ড এইচ-১বি অ্যাবিউজ অ্যাক্ট অব ২০২৬’-এ নতুন এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন টানা তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখা এবং নির্দিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রে এক লাখ ডলারের বিশাল ফি নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ফি নিয়ে আদালতের স্থগিতাদেশ ও আপিল চললেও কংগ্রেস আইন পাসের মাধ্যমে এটিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এর পাশাপাশি কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, ইনফোসিস, কগনিজ্যান্ট ও টিসিএসের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পিইআরএম (PERM) বা স্থায়ী শ্রম সনদের নিয়মাবলি কঠোর করার আলোচনা চলছে। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে রিপাবলিকানদের আনা এই কঠোর অভিবাসন প্রস্তাবগুলোর বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে উঠতে পারে। তবে সিনেটের জটিল সমীকরণ ও প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আমূল পরিবর্তন না এলেও ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে এক বিশাল টার্নিং পয়েন্ট হতে চলেছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস, ইউএস গভর্নমেন্ট পাবলিশিং অফিস।
