ফোরটিন ডেস্ক :
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট বা নেসেট নির্বাচনের ভোট গণনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও পরবর্তী সরকার কারা গঠন করতে যাচ্ছে—তা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হলেও কোনো বড় রাজনৈতিক জোটই সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
প্রাথমিক ফলাফলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ৫৩টি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে। অপরদিকে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইসেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট নিশ্চিত করতে পারে ৪৮টি আসন। তবে উভয় পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ম্যাজিক ফিগার’ অর্থাৎ ৬১টি আসনের চেয়ে বেশ দূরে রয়েছে।
ইসরায়েলের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার নজির পুরোনো হলেও বর্তমান পরিস্থিতি দেশটিকে দীর্ঘ ও জটিল রাজনৈতিক দরকষাকষির মুখে ঠেলে দিয়েছে। কোনো দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ না হওয়ায় সরকার গঠনে এখন গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক বা ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠেছে ছোট ও স্বতন্ত্র দলগুলো। নেতানিয়াহু কিংবা আইসেনকোট—যাঁকেই সরকার গঠন করতে হবে, তাঁদের এই ছোট দলগুলোর মন জুগিয়ে এবং তাদের দাবি-দাওয়া মেনেই জোটবদ্ধ হতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাকি থাকা সামরিক সদস্যদের ভোট ও অন্যান্য বিশেষ ব্যালট গণনা শেষ হলে দলগুলোর আসন সংখ্যায় সামান্য হেরফের হতে পারে, তবে তা সার্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলানোর জন্য যথেষ্ট হবে না। ফলে ছোট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে যদি কোনো পক্ষই ৬১টি আসনের সমীকরণ মেলাতে না পারে, তবে দেশটিতে খুব দ্রুতই আবারও নতুন জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আপাতত চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশ, আর পর্দার আড়ালে শুরু হয়েছে ক্ষমতার তীব্র হিসাব-নিকাশ।
