নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ : হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে অনলাইন নিউজ পোর্টাল জুমবাংলা ডটকমের সম্পাদক ও মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধির বিরুদ্ধে দুই কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) মানিকগঞ্জ সদর থানা আমলি আদালতে দণ্ডবিধির ৪৯৯, ৫০০ ও ৫০৬(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে মানহানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. আরিফুল ইসলাম জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেংরই গ্রামের বাসিন্দা এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলামের ছেলে। মামলায় জুমবাংলা ডটকমের সম্পাদক ছাড়াও পোর্টালটির মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মানিকগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিং সুপারভাইজার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ঘিওর উপজেলার বাসিন্দা মো. তমাল নামের এক যুবকের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তমালের দাবি, তাঁকে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্যাডে নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু হাসপাতালে যোগ দিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন নিয়োগপত্রটি সম্পূর্ণ ভুয়া। এ ঘটনায় তমাল মানিকগঞ্জ সদর থানা ও এনসিপির জেলা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এই লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে গত ২৪ অক্টোবর জুমবাংলায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে দুই দিন পর আদালতে এই ক্ষতিপূরণ ও মানহানির মামলা ঠুকে দেন এনসিপি নেতা।
তবে জুমবাংলার মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম জানান, প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাংবাদিকের কোনো ব্যক্তিগত মতামত বা অনুমান যুক্ত করা হয়নি। থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ, ভুক্তভোগীর বয়ান, অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম, তাঁর বাবা এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য সমন্বয় করেই একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল। এরপরও এ ধরনের মামলা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
এদিকে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস। তিনি বলেন, পেশাদার সাংবাদিকেরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হলে প্রেসক্লাব তাঁদের পাশে থাকবে। সংবাদ প্রকাশের জেরে কোনো সংবাদকর্মীকে আইনি মারপ্যাঁচে ফেলা সমীচীন নয়; গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
