আন্তর্জাতিক ডেস্ক : স্বজন হারানোর শোকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর শরীর থেকে কথিত ‘জিন ও অশুভ আত্মা’ তাড়ানোর নাম করে শোবার ঘরে নিয়ে ধর্ষণের দায়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি নাগরিক কমর উদ্দিনকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। ধর্মকে ঢাল বানিয়ে এবং পরিবারের আস্থার চরম অপব্যবহার করে এই জঘন্য অপরাধ সংঘটনের দায়ে লেস্টার ক্রাউন কোর্টের জুরিবোর্ড তাঁকে দুটি ধর্ষণ ও তিনটি যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি লেস্টার শহরের একটি আবাসিক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ৬৮ বছর বয়সী কমর উদ্দিন নিজেকে একজন ইমাম ও আধ্যাত্মিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেন। পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করেছিলেন, তাঁর চিকিৎসার মাধ্যমেই শোকাহত তরুণী স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন।
সেই অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে চিকিৎসার নামে তরুণীকে তাঁর নিজ শোবার ঘরে নিয়ে যান কমর উদ্দিন। নিচে পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করার সময় তিনি দরজার খিল তুলে মোমবাতি জ্বালিয়ে কথিত আচারের আড়ালে ওই তরুণীর ওপর পাশবিক যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ চালান। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে জানালে ‘অশুভ আত্মা আবার ফিরে আসবে’—এমন ভীতি দেখিয়ে তরুণীকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করার চেষ্টাও করেন তিনি।
পরবর্তীতে ঘটনার তদন্তে নেমে ভুক্তভোগী তরুণীর শারীরিক পরীক্ষায় সংগ্রহ করা নমুনা থেকে কমর উদ্দিনের ডিএনএ পায় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। এই অকাট্য প্রমাণের মুখে তাঁর সব অস্বীকার মিথ্যে প্রমাণিত হয়। মামলার পর জামিন পেয়ে কমর উদ্দিন কৌশলে যুক্তরাজ্য ছেড়ে জার্মানিতে পালিয়ে যান। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; ২০১৭ সালের নভেম্বরে তাঁকে জার্মানি থেকে গ্রেপ্তার করে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় লেস্টার ক্রাউন কোর্টের বিচারক টিমোথি স্পেন্সার কমর উদ্দিনের তীব্র ভর্ৎসনা করে তাঁকে ‘একজন চরম ভণ্ড, প্রতারক এবং নিজের ধর্মের জন্য কলঙ্ক’ বলে অভিহিত করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অসহায় একটি পরিবারের বাবার সরল বিশ্বাসের চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তিনি। জানা গেছে, ১১ সন্তানের জনক কমর উদ্দিন কোনো বৈধ অভিবাসন নথি ছাড়াই অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন। কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
