আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে এক বড় কূটনৈতিক পরিবর্তনের দাবি করেছে দলটির নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক সেল। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্কসহ আন্তর্জাতিক একাধিক প্ল্যাটফর্মে কয়েক দফা উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠকের পর শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ও নীতিগত ‘সবুজ সংকেত’ (গ্রিন সিগন্যাল) দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দল ও কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক থিংক-ট্যাংকদের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের একাধিক সংবেদনশীল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে তুলে ধরা হয় যে, দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, চরমপন্থার বিস্তার রোধ এবং বাংলাদেশে টেকসই বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনৈতিক উপস্থিতি অপরিহার্য। একটি বৃহৎ গণভিত্তিসম্পন্ন দলকে বাইরে রেখে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেশে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট তৈরি করছে—এমন যুক্তি আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা হয়।
এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় দলের আইসিটি উপদেষ্টা ও সিআরআই ট্রাস্টি সজীব ওয়াজেদ জয়ের তৎপরতা বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা আইন বিশেষজ্ঞ ও কূটনীতিকদের যুক্ত করে চালানো এই তৎপরতায় ওয়াশিংটনের সাথে নতুন রাজনৈতিক বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে বলে আওয়ামী লীগ দাবি করছে।
আন্তর্জাতিক মহলের ইতিবাচক ইঙ্গিতের ওপর ভিত্তি করে দলটির হাইকমান্ড ইতিমধ্যে তাঁদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনজীবীদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পাসের আইনি প্রক্রিয়া নভেম্বর মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারত ও আন্তর্জাতিক মহলের সাথে কৌশলগত বোঝাপড়া নিশ্চিত করে আগামী ডিসেম্বরেই শেখ হাসিনার চূড়ান্ত স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনক্ষণ নির্ধারণের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
