আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ক্যাথলিক চার্চের যাজক ও ধর্মীয় কর্তাব্যক্তিদের হাতে দশকের পর দশক ধরে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ভুক্তভোগীর সঙ্গে অন্তত ৮০ কোটি ডলারের এক বিশাল আর্থিক সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ক্যাথলিক আর্চডায়োসিস। দীর্ঘদিনের তিক্ত ও সংবেদনশীল আইনি বিরোধের নিষ্পত্তি টানতে এই সমঝোতার আলোচনা এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।
ঐতিহাসিক এই চুক্তির মাধ্যমে বিশাল আর্থিক দায় মিটিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের আইনজীবীদের একজন পল মোনেস জানিয়েছেন, সমঝোতাটি সম্পন্ন হতে কেবল কয়েকটি প্রক্রিয়াগত বিষয় বাকি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভুক্তভোগীদের সিংহভাগের বয়সই এখন ৬০, ৭০ কিংবা ৮০ বছর পার হয়ে গেছে। সারাজীবন বিচারের অপেক্ষায় থাকা এসব প্রবীণ মানুষের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের হয়তো অবসান ঘটবে, তবে শৈশবের সেই ভয়াল যৌন নির্যাতনের মানসিক ক্ষত কখনোই পুরোপুরি মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
নিউইয়র্কের ক্যাথলিক যাজকদের বিরুদ্ধে ষাট, সত্তর ও আশির দশকে সংঘটিত একের পর এক যৌন নিপীড়নের অভিযোগ দীর্ঘদিন আইনি মারপ্যাঁচে আটকে ছিল। ২০০৬ সালে অঙ্গরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত তামাদি আইনের শর্ত শিথিল করতে অস্বীকৃতি জানালেও, ২০১৯ সালে ‘চাইল্ড ভিকটিমস অ্যাক্ট’ পাসের পর চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। এই আইনের আওতায় ভুক্তভোগীরা দশকের পর দশক পুরোনো যৌন অপরাধের বিরুদ্ধেও দেওয়ানি মামলা করার সুযোগ পান, যার ফলে হাজার হাজার মামলা আছড়ে পড়ে চার্চসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর।
এর আগে ২০২৫ সালে সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ সামাল দিতে নিউইয়র্কের আর্চডায়োসিস তাদের সম্পদ বিক্রি ও খরচ কমিয়ে প্রায় ৩০ কোটি ডলারের একটি তহবিল তৈরির পরিকল্পনা করেছিল।
তবে মামলার ব্যাপকতায় সমঝোতার অঙ্ক এখন ৮০ কোটি ডলারে ঠেকেছে, যা আর্চডায়োসিসের জন্য এক বিশাল আর্থিক ধাক্কা। একই ধরনের কোটি কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণের মুখে পড়ে এর আগে নিউ অরলিন্সের ক্যাথলিক চার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদন করতে বাধ্য হয়েছিল।
প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, ভুক্তভোগীরা দুটি ভিন্ন উপায়ে ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করতে পারবেন। প্রথমত, কোনো আনুষ্ঠানিক যাচাইবাছাই ছাড়াই প্রত্যেকে এককালীন ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার করে নিতে পারবেন। অথবা দ্বিতীয় পদ্ধতিতে, নিজেদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিস্তারিত বিবরণ দাখিল করে মূল্যায়ন কমিটির মাধ্যমে নির্ধারিত অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন।
নিউইয়র্কের আর্চবিশপ রোনাল্ড এ হিকস যাজকদের পাঠানো এক বার্তায় বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি এখন ভুক্তভোগীদের ক্ষত নিরাময় ও পুনর্মিলনের এক নতুন দুয়ারে দাঁড়িয়ে। কেবল নিউইয়র্কই নয়, একই ধরনের যৌন অপরাধের জেরে বর্তমানে শিকাগো, বাল্টিমোর, বাফেলো ও সান ফ্রান্সিসকোর চার্চগুলোর বিরুদ্ধেও বড় ধরনের আইনি লড়াই চলছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
