নিজস্ব প্রতিবেদক, ভারতের মধ্যপ্রদেশে বাড়ির তৃতীয় তলার বারান্দা থেকে পানের পিক ফেলতে গিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম প্রভুলাল গুপ্তা (৬৫)।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে মধ্যপ্রদেশের বিদিশা জেলার গঞ্জবাসোদা শহরের গায়ত্রী নগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় প্রভুলাল গুপ্তা একটি নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে পানের পিক ফেলতে গিয়ে তিনি সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এ সময় ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া ১১ কেভি বিদ্যুতের লাইনের সংস্পর্শে আসেন তিনি। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর শরীর মারাত্মকভাবে ঝলসে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর প্রভুলাল বারান্দার কিনারায় আটকে পড়েন। খবর পেয়ে জরুরি সেবা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার পর উদ্ধারকারীরা তাঁর মরদেহ নিচে নামান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
প্রভুলাল গুপ্তা মূলত মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি গঞ্জবাসোদার গায়ত্রী নগরে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পর আবাসিক ভবনের এত কাছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের লাইন থাকা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বিপজ্জনক এই লাইন সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বাড়ির মালিক পদ্মা চিড়া জানিয়েছেন, ভবনের কাছ দিয়ে যাওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের লাইন সরানোর জন্য তিনি আগেও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছিলেন। তবে আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘদিনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।
স্থানীয় কাউন্সিলর মনীশ বিশ্বকর্মাও এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ লাইন পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনাটি আবাসিক ভবন ও নির্মাণাধীন স্থাপনার আশপাশে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের লাইন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।
Comments
Previous Article৯ মাসে ছেলে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ৭২ ঘটনা
