নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রী (৭)-কে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মোসলেম আহমদ (৩০) নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধর করে পুলিশে দিয়েছেন শিশুটির স্বজন ও এলাকাবাসী। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’য় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরদিন গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) শিশুটির বাবার করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, মাদ্রাসায় ভাঙচুর, শিক্ষকদের মারধর ও লুটপাটের অভিযোগে থানায় পৃথক আরেকটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ঘটনাটি কেন্দ্র করে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “…আমাদের স্টুডেন্টদের সঙ্গে আমার অন্য রকম সম্পর্ক, সবার সাথে, বিশেষ করে ক্লাস ওয়ানের। তার একপর্যায়ে আমি বললাম, চুমু…”। কথাটি শেষ হওয়ার আগেই ‘কিসের চুমু রে’ বলে ভুক্তভোগী শিশুটির স্বজনরা তাকে সপাটে থাপ্পড় ও মারধর শুরু করেন। ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের অন্য ভিডিওটিতে দেখা যায়, উত্তেজিত স্বজনরা শিক্ষককে মারধর করার সময় মাদ্রাসার কর্মীরা নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছেন এবং ভুক্তভোগীর পরিবার কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটি যৌন হয়রানির শিকার হয়। এরপর থেকে সে মাদ্রাসায় যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল। পরিবার কারণ জানতে চাইলে ভীতি ও মারধরের হুমকির কারণে শিশুটি শুরুতে মুখ খোলেনি। পরবর্তীতে মা-বাবার নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সে ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করে। এর জের ধরে বুধবার দুপুরে স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষককে প্রশ্ন করলে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়ে ওই শিক্ষককে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের দাবি, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ১৫-১৬ জনের একটি দল পরিকল্পিতভাবে প্রবেশ করে হামলা চালিয়েছে। তারা শিক্ষক ও কর্মীদের মারধরসহ কার্যালয় ভাঙচুর এবং নগদ ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল ফোন লুট করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে লুটপাটের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে শিশুটির বাবা জানান, ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকিমূলক মন্তব্যের কারণে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, শিশু নিপীড়নের মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। উভয় পক্ষ থেকেই হুমকির মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।
