নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের মানবাধিকার ও সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করায় সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে গণপিটুনি বা ‘মব’ সহিংসতায় অন্তত ২৩ জনের প্রাণহানি এবং কারা হেফাজতে ২৪ জন কারাবন্দীর মৃত্যুর ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) কর্তৃক দেশের মূলধারার গণমাধ্যম ও নিজস্ব অনুসন্ধান থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান উন্মোচিত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অন্তত ৬৫টি মব সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যাতে ৭৪ জন গুরুতর আহত হন।
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ ও ৩২ অনুযায়ী আইনানুযায়ী ব্যতিরেক কোনো ব্যক্তির জীবন বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হরণ করা যাবে না এবং বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। আদালত বা বিচারিক প্রক্রিয়া ব্যতিরেকে অন্যায় গণপিটুনি, নির্যাতন ও বেআইনি হত্যা ফৌজদারি দণ্ডবিধি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের প্রত্যক্ষ লঙ্ঘন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং বাংলাদেশ পুলিশ যৌথভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, কারাবন্দীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিচারবহির্ভূত সহিংসতা প্রতিরোধে সার্বিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি আওতায় আনার জোর নির্দেশ বহাল রয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা এমএসএফ জানায়, মূলত চুরি-ডাকাতির সন্দেহ, জমিজমা সংক্রান্ত শত্রুতা ও যৌন সহিংসতার অজুহাতে সাধারণ মানুষ বেআইনিভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, আগস্ট মাসে কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা ৯ থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা অর্ধেকেরও বেশি বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ১ জন নারীর মৃত্যু হয়েছে পুলিশ হেফাজতে।
একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৭১টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার, ২৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনে ৮টি নতুন মামলা দায়েরের মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টির তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এমএসএফের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশের সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সংস্থাটি অনতিবিলম্বে মব সহিংসতার কালচার বন্ধ, কারা হেফাজতে মৃত্যুর নিরপেক্ষ বিচার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে।
