ফোরটিন ডেস্ক : আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৫৩তম আন্তর্জাতিক অ্যাসেম্বলি শুরুর ঠিক এক সপ্তাহ পূর্বে সংস্থাটির মানবাধিকার কমিটিতে আনুষ্ঠানিক আইনি অভিযোগ দায়ের করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। লন্ডনের প্রখ্যাত আইনি প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাট্রিক্স চেম্বার্স’-এর মাধ্যমে দায়েরকৃত এই অভিযোগে তাঁর ওপর আরোপিত মৃত্যুদণ্ডের রায়, আইসিটি বিচার প্রক্রিয়া, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা এবং শতাধিক সাবেক সংসদ সদস্যকে দুই বছর ধরে বিনা বিচারে আটকে রাখার বিষয়ে স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের আর্জি জানানো হয়েছে।
লন্ডনের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার স্টিভেন পাউলস কেসি আন্তর্জাতিক ফোরামে শেখ হাসিনার পক্ষে এই চার দফা আইনি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস কোভেন্যান্ট (আইসিসিপিআর)-এর অনুচ্ছেদ ১৯, ২১, ২২ ও ২৫ এবং বিশ্বজনীন মানবা অধিকার নীতিমালার আওতায় বিচার পাওয়ার অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা। কোনো রাজনৈতিক দলকে বেআইনিভাবে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা এবং বিরোধী পক্ষের পলিটিক্যাল প্রতিনিধিদের বিনা বিচারে দুই বছর আটক রাখা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়ন (আইপিইউ) মানবাধিকার কমিটি এবং জাতিসংঘের নাগরিক অধিকার শাখা যৌথভাবে আন্তর্জাতিক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক নেতাদের বিচারিক সুরক্ষা ও আইনসভা প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা তদারকি করছে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মানবাধিকার হরণের বিষয়ে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক মনিটরিং অব্যাহত রাখা হয়েছে।
দায়ের করা অভিযোগে গত ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আইনজীবী বেছে নেওয়ার সুযোগবঞ্চিত রায়” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সাথে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে আয়োজিত সাধারণ নির্বাচনকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, “একটি ঐতিহাসিক ও মূল রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে আয়োজিত নির্বাচনের কোনো আন্তর্জাতিক বৈধতা থাকতে পারে না।”
অভিযোগে আরও জানানো হয় যে, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ১০০ জনের বেশি সাবেক এমপি বিনা বিচারে কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন।
আগামী ৫ থেকে ৯ অক্টোবর তানজানিয়ার আরুশায় অনুষ্ঠিতব্য আইপিইউ অ্যাসেম্বলিতে এই অভিযোগ উত্থাপিত হতে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বর্তমান বিচারিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
আইপিইউ প্রতিনিধি দলের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তানজানিয়া সম্মেলনে বাংলাদেশকে কঠোর আন্তর্জাতিক জেরার মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
