নিজস্ব প্রতিবেদক: শেখ হাসিনার জন্মদিনে তাঁর মা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ত্যাগ, স্বামী শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি তাঁর সমর্থন এবং নিজের জন্মের সময়কার একটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়।
শেখ হাসিনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে “শুভ জন্মদিন, মা!” সম্বোধন করে দেওয়া বার্তায় সজীব ওয়াজেদ দাবি করেন, তাঁর মায়ের সংগ্রামী চেতনার পেছনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের আদর্শ ও উত্তরাধিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শেখ হাসিনার জন্মের সময়কার একটি ঘটনা তুলে ধরে সজীব ওয়াজেদ লিখেছেন, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির প্রাক্কালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় শেখ মুজিবুর রহমানকে শরণার্থীদের আসা-যাওয়া তদারকির দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন তৎকালীন যুক্তবাংলার মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
সজীব ওয়াজেদের বর্ণনা অনুযায়ী, সোহরাওয়ার্দী শেখ মুজিবকে বলেছিলেন, দাঙ্গার পরিস্থিতিতে শুধু সরকারি কর্মচারীদের ওপর নির্ভর করতে পারছেন না। তাই ছাত্রলীগ ও মুসলিম লীগ ন্যাশনাল গার্ডের সমন্বয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে সীমান্তে গিয়ে শরণার্থীদের আসা-যাওয়া তদারকির দায়িত্ব নিতে তিনি শেখ মুজিবকে অনুরোধ করেন।
সে সময় শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। স্বামীকে কাছে পাওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও দেশের পরিস্থিতির কারণে শেখ মুজিবকে দায়িত্ব পালনে যেতে হতে পারে, এমন পরিস্থিতিতে তিনি তাঁকে উৎসাহিত করেন বলে জানান সজীব ওয়াজেদ।
তিনি লেখেন, কলকাতার পরিস্থিতি ও নিজের দায়িত্বের কথা জানিয়ে শেখ মুজিব তাঁর স্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন। জবাবে শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব তাঁকে দেশের কাজে যাওয়ার জন্য নিশ্চিন্ত করেন।
চিঠিতে শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব লিখেছিলেন, “আপনি শুধু আমার স্বামী হওয়ার জন্য জন্ম নেননি, দেশের কাজ করার জন্যও জন্ম নিয়েছেন। দেশের কাজই আপনার সবচাইতে বড় কাজ। আপনি নিশ্চিন্ত মনে আপনার কাজে যান। আমার জন্য চিন্তা করবেন না। আল্লাহর উপরে আমার ভার ছেড়ে দিন।”
সজীব ওয়াজেদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চিঠি পাওয়ার পর শেখ মুজিব সোহরাওয়ার্দীর কাছে গিয়ে শরণার্থীদের তদারকির দায়িত্ব পালনে যাওয়ার কথা জানান। তখন সোহরাওয়ার্দী তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি স্ত্রী রেণুর সঙ্গে পরামর্শ করেছেন কি না।
শেখ মুজিব চিঠির কথা জানিয়ে বলেন, তাঁর স্ত্রী তাঁকে নিশ্চিন্তে দেশের কাজে যেতে বলেছেন। তখন সোহরাওয়ার্দী তাঁকে বলেছিলেন, “Mujib, She is a precious gift to you from God. Don’t neglect her please.”
অর্থাৎ, রেণু তাঁর জন্য খোদার দেওয়া অমূল্য দান এবং তাঁকে যেন অবহেলা না করেন, এমন পরামর্শ দিয়েছিলেন সোহরাওয়ার্দী।
সজীব ওয়াজেদ বলেন, ওই সময় শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব যে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করছিলেন, তিনিই পরবর্তীকালে শেখ মুজিবের আদরের ‘হাচু’, শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনার জন্মের সঙ্গে ওই ঘটনাকে যুক্ত করে সজীব ওয়াজেদ লেখেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় একজন মায়ের চিন্তা, স্বপ্ন ও মানসিকতার প্রভাব সন্তানের ওপর পড়ে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তাঁর মতে, ১৯৪৭ সালের ওই ঘটনা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের চরিত্রের একটি উজ্জ্বল দিক যেমন তুলে ধরে, তেমনি শেখ হাসিনার জন্মের প্রেক্ষাপটকেও বিশেষ তাৎপর্য দেয়।
বার্তায় শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও সংগ্রামী জীবনের প্রসঙ্গ টেনে সজীব ওয়াজেদ আরও লেখেন, “ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, শেখ হাসিনার নিরন্তর সংগ্রামী চেতনার প্রেরণা পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের রক্তের ধারাবাহিকতায়-ই এসেছে।”
