কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে কটিয়াদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল আমিন রুহুল সরকার (৫০) মারা গেছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
খাইরুল আমিন রুহুল সরকার কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের দশপাখি গ্রামের মৃত উসমান গণির ছেলে। তিনি কেন্দ্রীয় দলিল লেখক সমিতির সাবেক সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং কটিয়াদী দলিল লেখক সমিতির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁর বড় ভাই নুরুল আমিন বলেন, তাঁর ভাইয়ের আগে থেকেই মাঝেমধ্যে বুকে ব্যথা হতো। কারাগারে থাকা অবস্থায় কয়েক দিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, দুই দিন ধরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও তিনি সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ পাননি। শনিবার তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে আইনি জটিলতায় কয়েক ঘণ্টা সময়ক্ষেপণ হয়।
পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। একপর্যায়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ খাইরুল আমিন রুহুল সরকারকে গ্রেপ্তার করে। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এরপর থেকে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে ছিলেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার নাশির আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেওয়ায় খাইরুল আমিন রুহুল সরকারকে প্রথমে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে পুলিশি ব্যবস্থাপনায় তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোররাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
