ফোরটিন ডেস্ক : সময় টেলিভিশনের হেড অব নিউজ এবং বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত মুজতবা খন্দকারের বিরুদ্ধে কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নারী সাংবাদিকদের অনৈতিক সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে এই বিস্ফোরক দাবি করে মিডিয়া অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির এক নারী রিপোর্টারকে নিউজ প্রেজেন্টর বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে রেস্তোরাঁয় ডেকে নিয়ে গায়ে হাত দেওয়া এবং ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়।
বাংলাদেশের শ্রম আইন এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সংক্রান্ত হাইকোর্টের স্পষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশনাবলী অনুযায়ী প্রতিভাবান নারী কর্মীদের জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অনৈতিক হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে কঠোর তদন্ত কমিশন গঠন করা অত্যাবশ্যক।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল যৌথভাবে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্ম পরিবেশ ও নারী সাংবাদিকদের সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করে আসছে। হয়রানি মুক্ত পেশাদার পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ তদারকি সক্রিয় রাখা রয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয় যে, সম্প্রতি সময় টিভির আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাদ্দাত আলী সাদাফের কক্ষের ভেতর এনটিভির এক নারী উপস্থাপিকাকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটান মুজতবা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের প্রধান বার্তা সম্পাদক ও ডিজিটাল অপারেশন প্রধানের এহেন আচরণে সময় টিভির সাধারণ কর্মীদের মাঝে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এমনকি প্রতিষ্ঠানটির একাধিক নারী কর্মী প্রশাসনিকভাবে নিগ্রহের ভয়ে হেড অব নিউজের কক্ষ এড়িয়ে চলেন বলেও প্রবাসী সেই সাংবাদিক দাবি করেছেন।
দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের শীর্ষ পদে বসে নারীদের এমন হেনস্তা ও প্রশাসনিক হয়রানির ঘটনা মূলধারার গণমাধ্যমের মর্যাদা ও ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলেছে বলে মনে করছেন সচেতন মিডিয়া কর্মীরা।
ঘটনার বিস্তারিত নিরপেক্ষ তদন্ত করে সময় টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না, সেদিকেই নজর সকলের।
