সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা পাঁচ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক বিবেচনায় বা প্রশাসনিক ভুলের কারণে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তাঁরা পুনরায় যাচাই ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীরা তাঁদের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আটকে থাকা নিয়োগপত্র ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
প্রার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশনের নামে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই অনেক যোগ্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক বিবেচনা, ভুল তথ্য কিংবা প্রশাসনিক ভুলের কারণে কোনো নিরপরাধ ও যোগ্য প্রার্থী যেন চাকরি থেকে বঞ্চিত না হন।
প্রার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় যাচাই করা, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া এবং প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি প্রশাসনিক ভুল সংশোধন করে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অথচ নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া নিয়োগপ্রক্রিয়ায় এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হয়েছে এবং কীভাবে এতসংখ্যক চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়েছেন, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীরা স্পষ্ট করে বলেন, অনিয়মকারী বা অযোগ্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে তাঁরা অবস্থান নিচ্ছেন না। তবে প্রশাসনিক ভুল, ভুল তথ্য কিংবা রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে কোনো যোগ্য প্রার্থী যেন বঞ্চিত না হন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।
প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডোপ টেস্ট দ্রুত শেষ হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইয়ে অতিরিক্ত সময় লাগে। একাধিকবার পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়।
এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের উদ্দেশে আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে কোনো উত্তীর্ণ প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেলে পরবর্তী সময়ে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পর্যায়ক্রমে দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
তবে প্রার্থীরা বলছেন, ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের আপত্তি নেই। তাঁদের দাবি, যাচাই-বাছাইয়ের নামে যেন যোগ্য প্রার্থীদের অন্যায়ভাবে বাদ না দেওয়া হয়। এ দাবিতে তাঁরা দ্রুত মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন।
