নিজস্ব প্রতিবেদক: নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের দীঘি বাজারে সরকারি অর্থে নির্মিত একটি দুই কক্ষের শৌচাগার ভেঙে বিএনপির কার্যালয় স্থাপনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত জনসাধারণের ব্যবহারের একমাত্র শৌচাগারটি ভেঙে সেখানে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানের ছবি সম্বলিত সাইনবোর্ড ঝোলানো হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে নির্মিত ঘরে তালা ঝুলতে দেখা গেলেও দলীয় সাইনবোর্ড ব্যবহারের ফলে বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
সরকারি খাসজমি রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে নির্মিত জনকল্যাণমূলক স্থাপনা সুরক্ষায় স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালার প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখল প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসন ও সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় যৌথভাবে খাসজমিতে নির্মিত সরকারি স্থাপনার অবৈধ দখলের বিষয়টি তদারকি করছে। জনসাধারণের ভোগান্তি নিরসনে সরকারি জায়গা পুনরুদ্ধার ও অন্যায় দখলদারিত্ব বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. রাজিব ঘটনার দায় এড়িয়ে বলেন, “টয়লেট কামাল ভেঙেছে, আমি সেই জায়গায় ঘর দিয়েছি; তবে বিএনপির সাইনবোর্ড কে লাগিয়েছে তা আমি জানি না।”
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল আশ্বাস দিয়ে জানান, খাসজমি দখল ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার এমন অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অসাধু প্রভাবশালীরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের জনভোগান্তি বাড়িয়ে খাসজমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছে বলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
সরকারি অর্থায়নে তৈরি জনসাধারণের একমাত্র ব্যবহারের টয়লেট গুঁড়িয়ে দেওয়ার পেছনে জড়িত দখলদারদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরজমিনে তদন্ত শেষে সরকারি শৌচাগারটি পুনরায় ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
