ফোরটিন ডেস্ক : পরামর্শের সূত্র ধরে পরিচয়, এরপর বিয়ে এবং পরিশেষে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই বিচারক হওয়ার এক বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রাজশাহীর উদাস গোস্বামী ও চৈতি বিশ্বাস দম্পতি। ১৬তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হওয়া উদাস গোস্বামীর পর তাঁর স্ত্রী চৈতি বিশ্বাসও ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিচারক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দুই সাবেক শিক্ষার্থীর এই যৌথ সাফল্য বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আইনি অঙ্গনে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা নীতি ও মেধা তালিকা নির্ধারণী শর্তাবলী অনুসরণ করে এ নিয়োগ প্রদান করা হয়। বিচার বিভাগে যোগ্য ও দক্ষ বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া তদারকি বহাল রাখা হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয় ও জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন যৌথভাবে নবীন বিচারকদের প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মেধাভিত্তিক এই সরকারি পদের স্বচ্ছতা অক্ষুণ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
উদাস গোস্বামী জানান, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় চৈতি তাঁর কাছে জজের প্রস্তুতির বিষয়ে পরামর্শ নিতে এলে তাঁদের পরিচয় ও পরবর্তীতে বিয়ে হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “মেধাবী স্ত্রীর ঘরের কাজকে প্রাধান্য না দিয়ে সবসময় পড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চেয়েছি এবং আমার বিশ্বাস ছিল ধারাবাহিক পরিশ্রম তাকে এই সফলতা এনে দেবে।”
রেজাল্ট প্রকাশের দিনে পঞ্চগড়ে কর্মরত উদাস আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন এবং প্রয়াত বাবার স্বপ্নের কথা স্মরণ করে পুরো পরিবার উদযাপনে ভেসে যায়।
গৃহস্থালি কাজের শিকল ভেঙে স্ত্রীর মেধা বিকশিত হতে উৎসাহ দেওয়া এবং বিচারক দম্পতির এই বিরল অর্জনকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন দেশের সচেতন সমাজ।
পেশাগত জীবনে দুজন বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নতুন জুডিশিয়াল প্রত্যাশীদের ধীরস্থির ও লক্ষ্য স্থির রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন উদাস-চৈতি দম্পতি।
