ফোরটিন ডেস্ক : আগামী ১০ নভেম্বর দেশব্যাপী সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বাতিল এবং নিত্যপণ্যের দাম কমানোসহ একাধিক দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের মানুষের মুক্তি, স্বস্তি, রাজনৈতিক অধিকার এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানসম্মত পরিবেশ ও নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সর্বাত্মক কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ট্রাইব্যুনাল ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় বাতিলসহ সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার; বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার; শিক্ষার্থীদের ওপর দেওয়া বহিষ্কারাদেশ বাতিল ও শিক্ষাজীবন ফিরিয়ে দেওয়া; বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস, পানি ও সারের মূল্যহ্রাস; তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ; সরকারি চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে পলিটিক্যাল স্ক্রিনিং ও হয়রানি বন্ধ এবং শিক্ষা খাতে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বাড়িয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলা।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১০ নভেম্বর সারা দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও রেলপথের যানবাহন (বাস, ট্রাক, ট্রেন), নৌপথের লঞ্চ, দোকানপাট, কলকারখানা, সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আদালতের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জরুরি মানবিক পরিষেবা হিসেবে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস এবং গণমাধ্যম এই ধর্মঘটের আওতামুক্ত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
দাবি আদায়ে রাজপথের এই সর্বাত্মক কর্মসূচিতে সক্রিয় সমর্থন ও সর্বস্তরের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ছাত্রসমাজ এবং দেশের আপামর জনসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে ছাত্রলীগ নেতৃত্ব।
