ফোরটিন ডেস্ক : জন্মের আগে নিজের অনুমতি নেওয়া হয়নি—এমন আজব ও দার্শনিক যুক্তিতে মা-বাবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন ভারতের মুম্বাইয়ের তরুণ রাফায়েল স্যামুয়েল। নিজেকে জন্মবিরোধী বা ‘অ্যান্টিন্যাটালিজম’ দর্শনের অনুসারী হিসেবে দাবি করে তিনি এই অভাবনীয় বিতর্কের সূচনা করেন।
রাফায়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন যে, কোনো শিশু তার নিজের ইচ্ছায় পৃথিবীতে আসে না। অথচ জন্মের পর শিক্ষা, চাকরি ও কঠিন জীবনের সকল দায়ভার তাকে বহন করতে বাধ্য করা হয়, যার পুরো দায়ভার মা-বাবার ওপর বর্তায়।
বিশ্বজুড়ে নাগরিক অধিকার এবং পারিবারিক আইনি কাঠামো সংক্রান্ত প্রচলিত বিধিমালা অনুসারে মামলা নিষ্পত্তির বিধান বহাল রয়েছে। যেকোনো নাগরিকের আদালতে আবেদন করার আইনি পথ উন্মুক্ত থাকলেও আদালতের নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্যতা নীতি অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
মুম্বাইয়ের স্থানীয় বিচার বিভাগ ও দেওয়ানি আদালতসমূহ বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। অস্তিত্ববাদী দার্শনিক যুক্তি হলেও আদালতের বিদ্যমান আইনের অধীনে মামলা গ্রহণের গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া বিবেচনা করার নিয়ম রয়েছে।
পেশায় ব্যবসায়ী রাফায়েলের মা-বাবা দুজনই পেশাদার আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকার বার্তা দেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে পরিবারের সাথে তাঁর সম্পর্ক স্বাভাবিক ও অত্যন্ত মধুর ছিল বলে জানান তিনি।
রাফায়েল স্যামুয়েল নিজের বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, “আমার জীবন বেশ ভালো কাটছে, তবে যে জীবনের জন্য আমি সম্মতি দিইনি, তার ভার আমার ওপর চাপানো নীতিগতভাবে ভুল এবং সন্তান জন্মদানের ফল মা-বাবাকেই বহন করতে হবে।”
তাঁর আইনজীবী মা কবিতা কার্নাড স্যামুয়েল ছেলের এই ভাবনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “রাফায়েল যদি যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিতে পারে কীভাবে জন্মের আগে তার সম্মতি নেওয়া সম্ভব ছিল, তবে আমি আদালতে নিজের ভুল মেনে নেব।”
সন্তান জন্মদানের নৈতিকতা এবং মানুষের অস্তিত্ব নিয়ে মুম্বাইয়ের এই তরুণের উত্থাপিত আজব প্রশ্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
শেষ পর্যন্ত কোনো আইনি সংস্থা বা আইনজীবী মামলা লড়তে রাজি না হওয়ায় কোনো আদালতের দাপ্তরিক নথিতে এই মামলার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
