নিজস্ব প্রতিবেদক: বাগেরহাটের রামপালে নিজ বাবা-মায়ের ওপর প্রতিপক্ষের হামলার অন্যায্য প্রতিবাদ করায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী আহাদকে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিপক্ষদের সাথে জমিসংক্রান্ত ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে আহাদের বাবা-মায়ের ওপর হামলা চালায় স্থানীয় প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনা দেখতে পেয়ে আহাদ এগিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাঁকে সরাসরি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়।
স্থানীয় থানা পুলিশ খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে মরদেহ প্রেরণের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর এবং তদন্ত সম্পন্ন করে দ্রুত আদালতে মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।
নিহত আহাদ রামপাল এলাকায় ছাত্রলীগের স্থানীয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন বলে তাঁর স্বজনেরা নিশ্চিত করেন। প্রতিপক্ষের এমন হঠাৎ হামলায় গোটা পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়ে।
রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, “পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিবাদের জেরে এই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে।”
তিনি আরও জানান যে আহাদকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি বা অন্য কোনো বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মতামত পাওয়া যায়নি। [DETAIL NEEDED: ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারের কোনো মতামত পাওয়া যায়নি]।
একজন প্রতিবাদী তরুণ ছাত্রলীগ কর্মীকে নিজ বাবা-মায়ের সামনে এমন নৃসংসভাবে হত্যা করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ অনতিবিলম্বে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়া এবং সুরতহাল প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
