ফোরটিন ডেস্ক : চলমান সংঘাত বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিসহ সাতটি শর্ত নির্ধারণ করেছে ইরান। তেহরানের বেঁধে দেওয়া শর্তগুলো না মানলে ব্যাপক সামরিক সংঘর্ষ ও হামলার হুশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।
কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই শর্তগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে বলে এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই জানান, তেহরান আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখলেও নিজস্ব নিরাপত্তার প্রশ্নে পিছু হটবে না। মার্কিন বাহিনীর সাম্ভাব্য পদক্ষেপ বিবেচনা করে দেশটির সামরিক প্রস্তুতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ইরান সরকারের নিরাপত্তা বিষয়ক স্থায়ী দপ্তর এ সংক্রান্ত কূটনৈতিক বার্তা পাঠানো নিশ্চিত করেছে। ওয়াশিংটনের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে তেহরান প্রশাসন।
গত মাসে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নিরসনে নতুন করে মধ্যস্থতা শুরু করে কাতার ও পাকিস্তান।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে এর জবাব ব্যাপক হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।”
ইরানের দেওয়া সাতটি প্রধান শর্তের মধ্যে রয়েছে সব পক্ষের অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, আটকে রাখা তহবিল ফেরত এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার। তেহরানের দাবি, এসব প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামনে অন্য পথ নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে এই সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চলাচলে বড় ধরনের হুমকি তৈরি হয়েছে।
ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত জবাব পাওয়ার ওপর ভিত্তি করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে ইরান তাদের পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
