নিজস্ব প্রতিবেদক: পটুয়াখালীর মহিপুরে লকডাউন কর্মসূচি পালনের জেরে যুবলীগ নেতা নজরুল ফকিরের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পটুয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিববুর রহমানের সার্বিক সহযোগিতায় ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে বের করা মশাল মিছিলকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিছিলে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন এবং কর্মসূচি শেষে নজরুল ফকির এলাকা ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ২০ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়িতে অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
পটুয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিববুর রহমান জানান, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। বর্তমানে মহিপুর থানা এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মহিপুর থানা পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজ শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নজরুল ফকির মহিপুর থানা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমান থানা যুবলীগের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের আদেশের প্রতিবাদেই লতাচাপলীতে এই মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
যুবলীগ নেতা নজরুল ফকির বলেন, “কেন্দ্রীয় যুবলীগের ঘোষিত কর্মসূচি এবং সাবেক এমপি মহিববুর রহমানের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পটুয়াখালী জেলা যুবলীগের নির্দেশনায় কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু এই কর্মসূচি পালনের জের ধরেই স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে লুটপাট করেছে।”
পটুয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর থেকেও তাদের নেতাকর্মীরা সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আক্রান্ত নেতাকর্মীদের সার্বিক আইনি ও মানবিক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস ব্যক্ত করেন।
এমন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর স্থানীয় আওয়ামী সমর্থক পরিবারগুলোর মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের মতে, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার ফলে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এবং ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দায়েরের ওপর ভিত্তি করে মামলা সংক্রান্ত পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
