ফোরটিন ডেস্ক : রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগ এবং বোমা উদ্ধারের পরপরই ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামে নতুন উগ্রবাদী সংগঠন গড়ে তোলার পরিকল্পনার খবর পাওয়া গেছে। ফার্মগেটের একটি মসজিদ থেকে ২৩ জনকে আটকের পর সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে এই আশঙ্কাজনক তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোববার সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে ২৩ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে মোবাইল ফরেনসিকের মাধ্যমে ১২ জনের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী দল গঠনের প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে।
ডিএমপি এবং সিটিটিসি ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাগুলোর প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ১২ জনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে এনে উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক, অর্থায়ন ও অনলাইন কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট তথ্য উদঘাটনের তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সার্বিক নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করেছে। তদন্ত শেষে আদালতের নিকট মামলাসংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং উগ্রবাদী তৎপরতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি রাজধানীতে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ, যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপে অগ্নিসংযোগের ঘটনা জনমনে নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছে। সাভার, মতিঝিল ও আশুলিয়ায় প্রেশারকুকার ও পাইপ বোমাসহ তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “তাদের টেলিফোনের ফরেনসিক রিপোর্টে এবং জিজ্ঞাসাবাদে যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে দেখা যায় তারা ইত্তেহাদুল উম্মাহ নামে আরেকটা সংগঠন করতে চায়, তারা খেলাফত প্রতিষ্ঠা করবে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’। অন্যদিকে নিরপেক্ষ মানবাধিকারকর্মীরা ঢালাও মন্তব্য না করে নিরপেক্ষ ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার আহ্বান জানান।
পরপর ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন এবং উগ্রবাদী নতুন সংগঠন তৈরির খবরের কারণে সাধারণ পথচারী ও কর্মজীবী মানুষের নিত্যদিনের নিরাপদে চলাচলে গভীর শঙ্কা ও অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে।
তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর রিমান্ডে থাকা আসামিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও আদালতের নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পুলিশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
