ফোরটিন ডেস্ক : জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় নিউইয়র্ক পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র জোহরান মামদানি ও পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এই প্রস্তুতি ও কর্মসূচির বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেন।
পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শীর্ষ বিশ্বনেতাদের বক্তব্য শুরু হবে। এ উপলক্ষে নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সমাবেশের জন্য বিএনপি ও আওয়ামী লীগসহ ৫৫টি সংগঠন ইতোমধ্যে অনুমতি নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতিসংঘ সদর দফতর এবং বিভিন্ন দেশের মিশনের সামনে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে টানা কর্মসূচি চলবে। কোনো কোনো দিন একই সময়ে একাধিক স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হতে পারে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে জেএফকে এয়ারপোর্টে পৌঁছাবেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা একই সময়ে বিমানবন্দর এলাকায় প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে।
পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠানে পুলিশ সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে থাকে, তবে কোনো সহিংস আচরণ সহ্য করা হবে না।”
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ডা. মাসুদুল হাসান অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সার্বিক নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। তাই তারা প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়ে এই সফর ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন।
এই ধরনের মুখোমুখি কর্মসূচি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মাঝে বড় ধরনের বিভাজন ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে তাদের দৈনন্দিন সামাজিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য প্রদানের পর বাইরে উভয় দলের ঘোষিত চূড়ান্ত কর্মসূচিগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
