ফোরটিন ডেস্ক :কানাডার নাগরিক জ্যাকুলিন মুসা ২০১১ সালে পারিবারিক ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ধর্মান্তরিত হওয়ার অভিজ্ঞতার ভিডিও ভাইরাল হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
গত শুক্রবার আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনায় তিনি নিজের এই দীর্ঘ আত্মিক অনুসন্ধান ও জীবনের বড় পরিবর্তনের বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেন। তিনি কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের ব্যানারে নয়, বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই এই বক্তব্য প্রদান করেন।
জ্যাকুলিন তার বক্তব্যে জানান, ইসলাম গ্রহণের পর তিনি নারী হিসেবে ব্যাপক সম্মান ও মর্যাদার অনুভূতি পেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী মূল্যবোধ এবং এর জীবনদর্শন তার ব্যক্তিগত যুক্তি ও নৈতিকতার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আসন্ন মাসগুলোতে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে হিজাব এবং মুসলিম নারীদের অধিকার বিষয়ক একাধিক ওয়েবিনারে অংশ নেবেন। আগামী ১০ অক্টোবর ইউটিউবে তার পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জ্যাকুলিন একটি ঐতিহ্যবাহী ইহুদি পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ২০১১ সালে তিনি ধর্মান্তরিত হন এবং পরবর্তীতে ‘দ্য রিলিজিয়ন অব ইসলাম’-এর মতো বিভিন্ন আর্কাইভ ওয়েবসাইটে তার এই জীবনযাত্রা সংরক্ষিত হয়।
জ্যাকুলিন মুসা বলেন, “অন্যান্য ধর্ম থেকে ইসলামে আসার পর আমি যে সম্মান, মর্যাদা ও জীবনের স্বচ্ছতা পেয়েছি, তা সত্যিই অনন্য ও অতুলনীয়।”
তিনি আরও দাবি করেন যে, ইসলাম সম্পর্কে পশ্চিমা সমাজে যে ভুল ধারণা রয়েছে, তার বাস্তবে কোনো ভিত্তি নেই। তার মতে, কুরআন এবং সুন্নাহর সঠিক শিক্ষা মানুষকে একটি অর্থপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল জীবন উপহার দেয়।
এই ধরনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়ার ফলে পশ্চিমা বিশ্বের তরুণদের মাঝে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। ‘দ্য সোশ্যাল রিসার্চ ইন্সটিটিউট’-এর গবেষকদের মতে, এটি সাধারণ মানুষের ধর্মান্তর বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গিতে স্থায়ী প্রভাব ফেলছে।
আগামী ১০ অক্টোবরের পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের পর তার এই বক্তব্য নিয়ে পরবর্তী পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
