ফোরটিন ডেস্ক : রাজপথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মসূচি ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছে সরকার। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর প্রধান প্রবেশপথসহ ২৫০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কড়া চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ঢাকার প্রবেশ মুখগুলোসহ ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বিশেষ এই চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, শহরের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এই বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গাবতলী, সাভার, সাইনবোর্ড, আবদুল্লাহপুর ও বসিলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঢাকার এই বিশেষ নিরাপত্তা বলয় ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। যেকোনো রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিদেশে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকদের বৈঠক এবং রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল ও প্রচারণার পর থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এর ফলে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ পথগুলোতে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
ডিএমপির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “রাজধানীবাসীর নিরাপত্ত নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অপপ্রয়াস প্রতিহত করতেই আমরা ২৫০টিরও বেশি পয়েন্টে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজপথে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় প্রশাসনিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষকে তল্লাশির নামে জিজ্ঞাসাবাদ করায় প্রশাসনের মানসিক ভয় ও জনভোগান্তির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাধারণ জনগণের মতে, রাজধানীর মোড়ে মোড়ে এ ধরনের প্রশাসনিক তল্লাশি গণপরিবহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এর ফলে ঢাকা কেন্দ্রিক নিত্যদিনের কর্মঘণ্টা ব্যাহত হয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরবর্তী নির্দেশনা ও মূল্যায়ন না আসা পর্যন্ত রাজধানীতে এই কড়া পাহারা অব্যাহত থাকবে।
