ফোরটিন ডেস্ক : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিপ্লবের ওপর ভর করে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অভিজাত ধনীদের বার্ষিক তালিকা ‘ফোর্বস ৪০০’-এর চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এআই খাতের দ্রুত বিস্তার ও বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে চলতি বছরে তরুণ উদ্যোক্তারা নাটকীয়ভাবে শীর্ষ ধনীদের কাতারে উঠে এসেছেন। বিগত বছরে ৪০ বছরের কম বয়সী মাত্র ৪ জন বিলিয়নিয়ার স্থান পেলেও, এ বছর সেই সংখ্যা আড়াই গুণ বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। মূলত এআই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে উঠে আসা ৭ জন নতুন উদ্যোক্তাই তরুণদের এই তালিকাকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন।
ফোর্বস প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, এ বছর ফোর্বস ৪০০-এর তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ার সর্বনিম্ন সম্পদসীমা নির্ধারিত হয়েছে ৪৪০ কোটি ডলার। তালিকায় থাকা সবচেয়ে কম বয়সী এই ১০ তরুণ ধনকুবেরের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯০ কোটি ডলারে। আগের বছর ২০২৫ সালে এই ১০ জনের মোট সম্পদ ৩ হাজার ৫৭০ কোটি ডলার হলেও, মার্ক জাকারবার্গ (৪২ বছর, ২১,২০০ কোটি ডলার), জশ কুশনার (৪১ বছর, ১,০৬৭ কোটি ডলার) এবং নাথান ব্লেচারজিক (৪৩ বছর, ১,০১৯ কোটি ডলার) বয়সের কারণে অনূর্ধ্ব-৪০ এর তালিকা থেকে বাদ পড়ায় মোট অংকে এই পরিবর্তন এসেছে।
শীর্ষ ১০ জন তরুণের মধ্যে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার সম্পদ নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন ওপেনএআই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান (৩৭)। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সার্জ এআই-এর প্রতিষ্ঠাতা এডউইন চেন (৩৮), যার সম্পদ ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। এ ছাড়া ১ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার করে সমপরিমাণ সম্পদ নিয়ে তালিকার তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ স্থান যৌথভাবে দখল করে রেখেছেন অ্যানথ্রোপিকের চার প্রাণপুরুষ—টম ব্রাউন (৩৯), ড্যানিয়েলা অ্যামোডেই (৩৯), জ্যাক ক্লার্ক (৩৭) এবং স্যাম ম্যাকক্যান্ডলিশ (৩৬)।
তালিকার বাকি স্থানগুলোতে রয়েছেন রবিনহুড ও এআই স্টার্টআপ হারমোনিকের প্রধান ভ্লাদ টেনেভ (৩৯, সম্পদ: ৭১০ কোটি ডলার), ডিফেন্স-টেক ও ড্রোন নির্মাতা অ্যান্ডুরিল-এর প্রতিষ্ঠাতা পামার লাকি (৩৩, সম্পদ: ৫৯০ কোটি ডলার), এআই কোডিং এজেন্ট ‘ডেভিন’-এর উদ্ভাবক কগনিশন-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভেন হাও (৩০, সম্পদ: ৫৮০ কোটি ডলার) এবং ঐতিহ্যবাহী খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের উত্তরাধিকারী লুকাস ওয়ালটন (৩৯, সম্পদ: ৪৪৪ কোটি ডলার)। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের এই উল্লম্ফন প্রমাণ করে যে ঐতিহ্যবাহী ব্যবসার চেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
