ফোরটিন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামাঙ্কিত সরকারি শিশু সঞ্চয় তহবিল বা ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’-এর ১ হাজার ডলারের অনুদান নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দেশটির ন্যাশভিলের এক বাবা। রাজনৈতিক মতাদর্শগত তীব্র বিরোধের কারণে নিজের ১৪ মাস বয়সী মেয়ের নামে এই অ্যাকাউন্ট খুলতে সাফ মানা করে দিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী ইসরায়েল অ্যান্থেম নামের ওই ব্যক্তি। নিজের পকেট থেকে সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করবেন তবুও মেয়ের ভবিষ্যৎ তহবিলের সঙ্গে আজীবন ট্রাম্পের নাম জড়িয়ে থাকুক—তা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
২০২৫ সালের কর ও ব্যয় আইনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিশেষ ব্যক্তিগত অবসর তহবিল বা আইআরএ হিসেবে এই ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ কর্মসূচি চালু করা হয়। এ বিধিমালার আওতায় ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরধারী প্রত্যেক শিশুর অ্যাকাউন্টে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এককালীন ১ হাজার ডলার করে জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধনের মাধ্যমে দেশজুড়ে ইতোমধ্যে প্রায় সাত কোটি শিশুর অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং আট বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ এতে জমা পড়েছে। ব্যাংক অব আমেরিকা ও ব্ল্যাকরকের মতো ৫০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক করপোরেট প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের সন্তানদের এই অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
মার্কিন প্রশাসন এই কর্মসূচিকে শিশুদের আর্থিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে প্রচার করলেও অ্যান্থেমের মতো অনেক অভিভাবকই রাজনৈতিক কারণে ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে সহজভাবে নিতে পারছেন না। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক স্কট রিকের মতে, মানুষের এই প্রতিক্রিয়ার পেছনে মূলত ‘মেন্টাল অ্যাকাউন্টিং’ বা মানসিক হিসাব-নিকাশ কাজ করে। কোনো অর্থের উৎসের সঙ্গে যদি কারো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক আদর্শের চরম সংঘাত থাকে, তবে সেই অর্থকে কলঙ্কিত বা ‘বিষাক্ত গাছের ফল’ হিসেবে বিবেচনা করে অনেকেই তা এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু অভিভাবক রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সন্তানের আর্থিক ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই অনুদানকে স্বাগত জানালেও নিজের অবস্থানে এখনো অনড় অ্যান্থেম। নিত্যদিনের অর্থনৈতিক টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নামের ছোঁয়া বাঁচিয়ে মেয়েকে বড় করতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
