ফোরটিন ডেস্ক : মাত্র এক দশকের ব্যবধানে বিশ্বের দুই শীর্ষ ধনকুবেরের সম্পদের চিত্রে অভাবনীয় ও নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। ২০১৬ সালে ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির মোট সম্পদের প্রায় অর্ধেকের মালিক ছিলেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তবে ২০২৬ সালে এসে সেই সমীকরণ পুরোপুরি উল্টে গেছে; সম্পদের হিসাবে বর্তমানে আম্বানির চেয়ে প্রায় ১১ গুণ এগিয়ে গেছেন মাস্ক।
ফোর্বসের ১ নভেম্বর (২০২৬) প্রকাশিত রিয়েল-টাইম বিলিয়নিয়ার তালিকা অনুযায়ী, ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৬৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে একই সময়ে মুকেশ আম্বানির সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে। ফলে এই দুই শীর্ষ ধনকুবেরের ব্যক্তিগত সম্পদের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৮৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে।
এক দশক আগের চিত্রটি ছিল এর ঠিক বিপরীত। ২০১৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফোর্বসের ভারতের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় মুকেশ আম্বানির সম্পদ ছিল ২২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে একই বছরের ফোর্বস ৪০০ তালিকায় ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ছিল মাত্র ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ সে সময় আম্বানির তুলনায় মাস্ক সম্পদের দিক থেকে অর্ধেকের কাছাকাছি ছিলেন।
পরবর্তী ১০ বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির দাপটে মাস্কের সম্পদে রেকর্ড উল্লম্ফন ঘটে। ২০১৬ সালের ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন থেকে প্রায় ৭৫ গুণ বেড়ে তাঁর সম্পদ ৮৬৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির মূলে রয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা, মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং এআইভিত্তিক বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগে তাঁর মালিকানা ও শেয়ারের ক্রমবর্ধমান বাজারমূল্য।
অন্যদিকে মুকেশ আম্বানির ব্যবসায়ী সাম্রাজ্য ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি, পেট্রোকেমিক্যাল, রিটেল এবং টেলিকম খাতের রিলায়েন্স জিওকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত হলেও তা মাস্কের প্রযুক্তি খাতের উল্কার গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ধনকুবেরদের এই সম্পদের হিসাব মূলত তাঁদের কোম্পানির শেয়ারদর ও বাজার মূল্যায়নের ওপর নির্ভরশীল, যা শেয়ারবাজারের ওঠানামার সঙ্গে সার্বক্ষণিক পরিবর্তনশীল।
