পিরোজপুর প্রতিনিধি : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধার প্রতিবাদ করে এবার প্রাণভয়ে নিজ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তাঁর ছোট বোন হেনা বেগম। ভাইয়ের জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের দায়ী করে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকে ধারাবাহিক প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ তাঁর।
পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে পৈতৃক বাড়ির পাশে একটি ঝুপড়িঘরে বসবাস করতেন হেনা বেগম। চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মুখে গত ২৮ অক্টোবর তিনি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন। এর আগে তাঁর আরও কয়েকজন নিকটাত্মীয়ও গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তবে মানিক পশারীর অপর ভাই চানমিয়া পশারী ও বড় বোন হাসিনা বেগমসহ পরিবারের একাংশ এখনো চরম উদ্বেগের মধ্যে সেখানে অবস্থান করছেন।
গত ২৪ অক্টোবর সকালে অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। মৃত্যুর পর পিরোজপুরে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান ও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় একটি মহলের বাধার মুখে শহরে জামায়াত নেতাকর্মীদের সমবেত হতে দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে পুলিশি পাহারায় চরম আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে তাঁর মরদেহ দাফন করেন স্বজনরা।
এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা হেনা বেগম জানান, রাতে ঘরে একা থাকতে ভয় লাগত। ভাইয়ের দাফনে বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে কথা বলার পর থেকেই তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে সাময়িকভাবে তিনি এলাকা ছেড়েছেন। এর আগে নিহতের আরেক ভাই পান্না পশারী ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে খুলনা থেকে পিরোজপুরে পৌঁছালে তাঁকেও বাসস্ট্যান্ড থেকে হুমকি দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুর রব দাবি করেন, তাঁদের দলের পক্ষ থেকে মানিক পশারীর পরিবারের কাউকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি এবং শুরু থেকেই তাঁরা এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। এ ঘটনাকে তাঁদের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র বলেও দাবি করেন তিনি।
পিরোজপুর সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক রাধেশ্যাম সরকার জানান, দাফনের পর থেকে এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। তবে হেনা বেগমের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশকে এখনো কেউ কিছু জানায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
