ফোরটিন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ গাড়ি। তবে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে সামান্য সচেতনতার অভাব ও কয়েকটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দেশটির পরিবারগুলোকে প্রতি বছর হাজার হাজার ডলারের অতিরিক্ত মাশুল গুনতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য ও বিভিন্ন লেন্ডিং স্টাডির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অতিরিক্ত খরচ এড়িয়ে গাড়ির বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৭টি বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যে ৭ ভুলের কারণে বাড়ছে বার্ষিক খরচ:
১. অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো: লেন্ডিংট্রি-র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্ধারিত গতির চেয়ে ১১ থেকে ১৫ মাইল বেশি বেগে গাড়ি চালিয়ে জরিমানা খেলে বীমা খরচ গড়ে ২২.৭% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে (যা গড়ে বছরে ৫২৪.৭৪ ডলার)। ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যে এই বৃদ্ধির হার ৪২% পর্যন্ত পৌঁছায়। ২. লাল বাতি ও স্টপ সাইন অমান্য করা: লাল বাতি বা স্টপ সাইনে সম্পূর্ণভাবে না থামা কেবল জরিমানাই বাড়ায় না, ড্রাইভিং রেকর্ডে বিরূপ প্রভাব ফেলে বীমার প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দেয়। ৩. অপর্যাপ্ত বীমা পলিসি নেওয়া: কম খরচের কথা ভেবে শুধু দায়বদ্ধতার (Liability) বীমা নিলে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে নিজস্ব গাড়ির বড় অংকের ক্ষতিপূরণ হাতছাড়া হতে পারে। Comprehensive ও Collision সুরক্ষা না থাকলে চুরি, আগুন বা ভাঙচুরের পুরো ক্ষতি নিজেকেই বহন করতে হয়। ৪. রক্ষণাবেক্ষণ ও ড্যাশবোর্ডের ওয়ার্নিং উপেক্ষা: নিয়মিত ইঞ্জিন ওয়েল পরিবর্তন, টায়ারের প্রেশার ও ব্রেক না দেখা কিংবা ড্যাশবোর্ডের ইঞ্জিন সতর্কতার বাতি উপেক্ষা করার ফলে পরবর্তীতে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং মোটা অংকের মেরামত খরচ গুনতে হয়। ৫. টোল ও পার্কিং জরিমানা পরিশোধে দেরি: নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, পার্কিং বা ট্রাফিক ক্যামেরার জরিমানা সময়মতো পরিশোধ না করলে ১০ ডলার বিলম্ব ফি এবং পরবর্তীতে গাড়ি ক্র্যাকিং বা টেনে নিয়ে যাওয়ার মতো ব্যয়বহুল পরিণতি ভোগ করতে হয়। ৬. অপ্রয়োজনীয় প্রিমিয়াম ফুয়েল ব্যবহার: যে গাড়িতে সাধারণ (Regular) পেট্রোল ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে, সেখানে শুধু শুধু বেশি দামের প্রিমিয়াম পেট্রোল ব্যবহার করলে কোনো বাড়তি পারফরম্যান্স পাওয়া যায় না, বরং অনর্থক অর্থ অপচয় হয়। ৭. বীমার রেট তুলনা না করা: বর্তমান কোম্পানির ওপর ভরসা না রেখে পলিসি নবায়নের সময় বিভিন্ন বীমা কোম্পানির কোটেশন তুলনা না করলে হাজার ডলার সাশ্রয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়।
অঙ্গরাজ্য ও শহরের নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত খরচের পরিমাপ ভিন্ন হতে পারে। চালকেরা যদি নিয়মিত ছোটখাটো রক্ষণাবেক্ষণ, ই-জেডপাস সচল রাখা এবং ট্রাফিক টিকিট পাওয়ার সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, তবে বছরে বড় অংকের বাজেট সাশ্রয় করা সম্ভব।
