ফোরটিন ডেস্ক : একসময় দেশের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎ সংযোগের বাইরে থাকলেও ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বিদ্যুৎপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যাপক সম্প্রসারণের ফলে দেশের প্রায় সর্বত্র বিদ্যুৎ পৌঁছে যায়।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের দিকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎপ্রাপ্তির হার ছিল প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি। পরবর্তী এক দশকে বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০২২ সালের মধ্যে দেশের প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসে।
এই সময়ে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় গ্রিড ও বিতরণব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের পরিধি বাড়ানো হয়। পাশাপাশি গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নতুন সংযোগ দেওয়ার কার্যক্রম জোরদার করা হয়।
বিদ্যুৎ সংযোগের এই সম্প্রসারণের ফলে শুধু শহরাঞ্চল নয়, দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশও নিয়মিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পায়। শিক্ষা, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়তে থাকে।
২০১০ সালের তুলনায় ২০২২ সালে বাংলাদেশের বিদ্যুৎপ্রাপ্তির চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিদ্যুৎ সংযোগের হার প্রায় সর্বজনীন পর্যায়ে পৌঁছানোকে ওই সময়ের বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের অন্যতম বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়।
তবে বিদ্যুৎপ্রাপ্তির হার বাড়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ বিতরণ এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোও বিদ্যুৎ খাতের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে ছিল।
সব মিলিয়ে, ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যাপক সম্প্রসারণ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ছিল। বিদ্যুৎবিহীন বা সীমিত সংযোগের বাংলাদেশ থেকে প্রায় সর্বজনীন বিদ্যুৎপ্রাপ্তির পর্যায়ে পৌঁছানো ছিল এই সময়ের অন্যতম দৃশ্যমান পরিবর্তন।
