নিউজ ডেস্ক: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) স্থাপত্য বিভাগের চরম সেশনজট নিরসন ও পর্যাপ্ত শিক্ষকের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর শিক্ষকদের চড়াও হওয়া এবং নারী শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত ও হেনস্তা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আন্দোলনের সময় শিক্ষকদের টানাটানি ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ধ্বংসের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করা গোবিপ্রবি স্থাপত্য বিভাগে শুরু থেকেই তীব্র শিক্ষক সংকট চলছে। নীতিমালা অনুযায়ী ৮টি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অন্তত ১৬ জন শিক্ষক প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র ৪ জন শিক্ষক দিয়ে পুরো বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে। ফলে চরম সেশনজটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা এবং চালুর ৮ বছরেও কোনো ব্যাচ তাদের শিক্ষা জীবন শেষ করে বের হতে পারেনি।
এই পরিস্থিতির প্রতিকারে গত সোমবার পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা উপাচার্যের দপ্তর ও প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, উপাচার্যসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বিভিন্ন আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিনের আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবার পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
আন্দোলনের একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাধিক শিক্ষক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন। সিসিটিভি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, আন্দোলন চলাকালে কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে চরম উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলেন ও শারীরিক লাঞ্ছনা করেন। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়ো-সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক ড .নিয়াজ আল হাসান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক আকাশ দাশ, এসিসিই বিভাগের ড.কামরুজ্জামান লোকপ্রশাসন বিভাগের ড.ফ্রামিয়া সুলতানা বিতান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড.হাসিবুর রহমান সহ একাধিক শিক্ষক এই হামলায় অংশ নেন।
শুধু নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তাই নয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাসিবুর রহমান স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যানের সাথে চরম দুর্ব্যবহার ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম, পরীক্ষা ও চূড়ান্ত ফলাফল ‘দেখে নেয়ার’ প্রকাশ্য হুমকি দেন, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
টানা ৮ ঘণ্টা ভিসি ও প্রশাসনিক দপ্তর অবরুদ্ধ থাকার পর রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি উপাচার্য এবং স্থাপত্য বিভাগের প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) বৈঠকের মাধ্যমে শিক্ষক সংকটের স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন। সংসদ সদস্যের আশ্বাসে অবরুদ্ধ অবস্থা শিথিল হয়
Comments
