বিশেষ প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি : নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি বৈঠক ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের সাংগঠনিক অবস্থান এবং শেখ হাসিনার সম্ভাব্য স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ২৩ জন কেন্দ্রীয় নেতার এই বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বৈঠককে ঘিরে গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দাবি করা হচ্ছে। বৈঠকের স্থান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও গোপনীয়তা রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে একাধিক সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে স্থলপথে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ফেরার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে। তবে এ ধরনের কোনো প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সম্প্রতি শেখ হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশে ফিরে জনগণের পাশে দাঁড়ানো এবং রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার উদ্দেশ্য।
এদিকে বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় এবং এ বিষয়ে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রশ্নটি বর্তমানে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। গত মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকেও শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি উত্থাপিত হয়।
এর মধ্যে ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠককে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক আলোচনা জোরদার হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। বৈঠকে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল গুরুত্ব পেতে পারে।
তবে পেট্রাপোল সীমান্তে বড় আকারের সমাবেশ, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার, বিদেশি ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি কিংবা জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে যেসব আলোচনা রয়েছে, সেগুলো এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে সামনে আসেনি।
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা এমন সময়ে হচ্ছে, যখন বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা নিজেও ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।
