নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সরকারি ভবন মাদ্রাসার কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম, কল্যাণ ও স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য নির্মিত ভবনটি বর্তমানে একটি মাদ্রাসার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভবনটি মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হয়।
তবে ভবনটি কীভাবে, কার সিদ্ধান্তে এবং কোন প্রক্রিয়ায় মাদ্রাসার কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি মালিকানাধীন এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জন্য নির্ধারিত একটি স্থাপনা অন্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারে দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও স্পষ্টতা নেই।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত ভবন অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের দখল বা ব্যবহারে চলে গেলে তা তাদের অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই ভবনটি কোন প্রক্রিয়ায় মাদ্রাসার ব্যবহারে গেল, কার অনুমতিতে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে তিনটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভবন কীভাবে মাদ্রাসার কাজে গেল, কার অনুমতিতে ভবনটি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সরকারি ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণের জন্য নির্ধারিত সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত এই স্থাপনা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে প্রকাশ এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
তাদের মতে, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সম্পদ ও মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
Comments
Previous Articleশীর্ষ সন্ত্রাসীদের হাতে থানা থেকে লুটের অস্ত্র
