নিজস্ব প্রতিবেদক: বাগেরহাটের মোংলার জয়মণি গ্রামের জেলে ও মৌসুমী মধু আহরণকারী মিরাজ শেখ (৩০) গত ১০ এপ্রিল কোস্টগার্ডের হাড়বাড়িয়া স্টেশনের পাশ থেকে আটকের পর চার মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তাকে খুঁজতে গিয়ে মামলা ও কারাভোগের শিকার হয়েছেন তার মা, স্ত্রী ও বোন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় হাড়বাড়িয়া কোস্টগার্ড স্টেশনের পাশের একটি চায়ের দোকানে মিরাজ অবস্থান করছিলেন। এ সময় সিভিল পোশাকে দুই ব্যক্তি নৌকায় করে এসে তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মিরাজকে মারধর করে জেটিতে নেওয়ার পর অন্য একটি নৌকায় তুলে কোস্টগার্ড স্টেশনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মিরাজের স্ত্রী মুক্তা খাতুন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি স্বামীকে মারধরের শিকার হতে দেখেন। পরে তাকে জোর করে নৌকায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
জেল খেটেছেন মা-স্ত্রী-বোন:
মিরাজের নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধান দাবি করে বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ করেন। এর মধ্যে গত ১১ জুন কোস্টগার্ডের পিও মো. শাহিনুর রহমান বাদী হয়ে মিরাজের স্ত্রী, অসুস্থ মা ও বোনসহ ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩০০ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার মালামাল চুরি ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়।
মামলায় মিরাজের পরিবারের তিন নারীসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা ১২ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ২৭ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।
মিরাজের বোন লিজা ইসলাম অভিযোগ করেন, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং হাড়বাড়িয়া স্টেশনে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। তাদের কাছে থাকা একটি মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিবাদ করায় হুমকির অভিযোগ:
মিরাজের নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে কথা বলা ও লেখালেখি করায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকসহ কয়েকজনকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যে চায়ের দোকান থেকে মিরাজকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, সেই দোকানদার আল আমিনও এ ঘটনায় মুখ খোলার কারণে মামলার আসামি হয়েছেন বলে জানান।
মিরাজের বোন লিজা ইসলাম বলেন, পরিবারের সদস্যদের বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, রাতের বেলা বাড়িতে এসে হুমকি দেওয়ার কারণে তারা আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও মিরাজের নিখোঁজের বিষয়ে কথা না বলার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
এইচআরডব্লিউর উদ্বেগ:
মিরাজের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, মিরাজের স্ত্রী স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে কোস্টগার্ডের পন্টুনে গিয়ে তাকে আটক অবস্থায় দেখেছিলেন এবং পরে তাকে হাড়বাড়িয়া ক্যাম্পে নেওয়া হয়। তবে পরদিন দায়িত্বে থাকা নতুন দল মিরাজকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
মিরাজের পরিবার এখনো তার সন্ধান ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আসছে।
