হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘অনিবার্য পরিস্থিতি’র (ফোর্স মেজার) মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কাতার এনার্জি। স্বাভাবিক পরিবহন বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে এলএনজি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত। খবর ইউরো নিউজ।
কাতার এনার্জি জানিয়েছে, পাকিস্তানের ক্রেতাদের অক্টোবরের চালান এবং বাংলাদেশে সেপ্টেম্বরের পরের সরবরাহ বাতিল হতে পারে। এমনকি সম্প্রতি বাতিল হওয়া চালানগুলোর প্রভাব গিয়ে গড়িয়েছে আগামী নভেম্বরের প্রথমভাগ পর্যন্ত। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি আমদানি করা হলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত বিকল্প আমদানির চেষ্টা করা সত্ত্বেও কার্গো যথাসময়ে না পৌঁছানোয় বাংলাদেশে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
আইসিআইএসের তথ্যমতে, সংঘাতের প্রথম ৬ মাসে কাতার থেকে মাত্র ১৮টি চালান রওনা হতে পেরেছে, যা গত বছর ছিল ৫০৯টি। এতে কাতারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন (২ হাজার ৪০০ কোটি) ডলার। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নাইজেরিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও তা কাতারের ঘাটতি পূরণে পর্যাপ্ত নয়।
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ অ্যান-সোফি করবো জানান, কাতার ও আমিরাতের সরবরাহে এ দীর্ঘস্থায়ী ধাক্কার ফলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্যের পরিমাণ সামগ্রিকভাবে কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ স্বল্পমেয়াদি চুক্তি ও কাতারের ওপর বেশি নির্ভরশীল, তারাই সবচেয়ে বিপাকে পড়বে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের তেল-গ্যাসের দামের সাথে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকায় জাপান তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বৈশ্বিক বাজারে স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
বর্তমানে ইরান-ইসরায়েল সংকটের ফলে হরমুজ প্রণালিতে বিশেষায়িত এলএনজি জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তা ছাড়া কাতার এনার্জির ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদন ইউনিটগুলো মেরামত করে পুনরায় সচল করতে ২ মাস থেকে ৩-৫ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
