ফোরটিন ডেস্ক : ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৪১ লাখ পরিবারের জন্য জাতীয় ডেবিট কার্ড ‘টাকাপে’ প্রস্তুত করতেই প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব সামনে এসেছে। প্রতিটি কার্ড তৈরিতে আনুমানিক ৬০০ টাকা খরচ ধরা হলেও, এই বিশাল অর্থের জোগান শেষ পর্যন্ত কে দেবে তা নিয়ে অর্থ বিভাগে এখনও কোনো রূপরেখা চূড়ান্ত হয়নি। সরকারের তহবিল থেকে এই ব্যয় মেটানো হবে, নাকি সুবিধাভোগীদের ওপর কোনো চাপ আসবে সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত মিলেনি।
আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট, ২০২৬) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে অর্থ বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অর্থ বিতরণের জন্য ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসকে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হলেও প্রসেসিং ফি ও কার্ড প্রস্তুতের ২৪৬ কোটি টাকার দায়ভার কারা নেবে তা অনিষ্পন্ন থেকে যায়। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কার্ডের মূল সহায়তার জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও এই প্রশাসনিক চার্জ পুরো কর্মসূচিকে নতুন আর্থিক প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই সরকার এই পদক্ষপ নিয়েছে, ফলে সুবিধাভোগী দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর নতুন করে কোনো ফি আরোপ করার সুযোগ কম। এর আগে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ঘোষণা দিয়েছিলেন, ফ্যামিলি কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদে চার বছরে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এর আওতায় আনতে শুধু কার্ড তৈরি বাবদই প্রায় ৯৬০ কোটি টাকা খরচের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যার চূড়ান্ত সুরাহা আগামী সচিবালয় বৈঠকে হতে পারে।
