ফোরটিন ডেস্ক : বাংলা সাহিত্যের পরম সম্পদ, সাম্য ও দ্রোহের প্রতীক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণ দিবস আজ। ১৯৭৬ সালের ২৭ আগস্ট তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ৭৭ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জাতীয় কবির এই মহাপ্রয়াণের অর্ধশতক পূর্তিতে গভীর শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করছে গোটা দেশ।
১৮৯৯ সালের ২৫ মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নজরুল। চরম অভাব ও স্বজন হারানোর বেদনায় ভরা শৈশবে তাঁর ডাকনাম রাখা হয়েছিল ‘দুখু মিয়া’। মাত্র ১০ বছর বয়সে পিতৃহীন হয়ে রুটির দোকানে কাজ করা সেই দুখু মিয়াই পরবর্তীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পল্টনে যোগ দেন এবং পরে স্বাধিকার আন্দোলনে যোগ দিয়ে ‘বিদ্রোহী’ ও ‘ভাঙার গান’ দিয়ে ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেন। সাহিত্য জীবনে মাত্র ২৩ বছর সক্রিয় থাকলেও গজল, হামদ, নাত, শ্যামাসংগীত রচনা ও সুফি দর্শনে তিনি ছিলেন অনন্য।
১৯৭২ সালের মে মাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ উদ্যোগ ও ভারতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সহযোগিতায় কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। ঢাকায় তেজগাঁও বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার পর তাঁকে ‘জাতীয় কবি’র মর্যাদায় ভূষিত করে ধানমণ্ডিতে কবি ভবন প্রদান করা হয়। মৃত্যুর পর কবির ইচ্ছানুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।
