ফোরটিন ডেস্ক : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন ও রাজনৈতিক বিতর্ক। কোনো ব্যক্তি মুখে নাগরিকত্ব ত্যাগের দাবি করলেই কিংবা আবেদন জমা দিলেই তিনি আর ব্রিটিশ নাগরিক নন—আইনগতভাবে এমনটা বলার সুযোগ নেই। যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও হোম অফিসের অফিশিয়াল নিয়মানুযায়ী, ‘নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণাপত্র’ নিবন্ধনের পরই কেবল কার্যকর হয় নাগরিকত্ব হারানোর প্রক্রিয়া।
গত ২১ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর হুমায়ুন কবিরের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে তৈরি হয় জল্পনা। বিষয়টি নিয়ে সরকারের আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান যে হুমায়ুন কবির নিয়োগের আগেই ইউকে নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। কিন্তু যুক্তরাজ্যের সরকারি নির্দেশিকা ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল কোহেনের মতানুযায়ী, কেবল পাসপোর্ট জমা দেওয়া বা ফর্ম পাঠানো নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো বৈধ সনদ নয়। স্বরাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর আবেদনকারীকে যে ‘নিবন্ধিত ত্যাগের ঘোষণাপত্র’ দেওয়া হয়, সেটাই হচ্ছে শতভাগ আইনি প্রমাণপত্র।
যুক্তরাজ্যে নাগরিকদের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে উন্মুক্ত কোনো ডাটাবেজ না থাকায়, একজন ব্যক্তি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না তা প্রকাশ্যে জানার একমাত্র উপায় নিবন্ধিত সরকারি সেই চূড়ান্ত কপি। ফলে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন হুমায়ুন কবিরের সেই নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিক তারিখটি। নিয়োগ এবং শপথের আগেই ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরে সেই ত্যাগের সনদ নথিভুক্ত করা হয়েছিল কি না, সেটি প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত এই বিতর্কের সুরাহা হচ্ছে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
